‘আশা’
Posted: 05 অক্টোবর, 2025
একতা প্রতিবেদক :
ধৈর্য্যের ফল যে সুমিষ্ট হয়, সেটা বুঝতে আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? সুনীল বলেছিলেন, ৩৩ বছর কেটে গেছে কেউ কথা রাখেনি। যদিও আমাদের এখনও তত অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩৩ মাসও এখনও যায়নি। তবে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, একদিন আইন মন্ত্রণালয় সদাশয় হয়ে নিশ্চয়ই কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করবে, এই আশা করতে দোষ তো কিছু নেই। এত উতলা হওয়ার কিছু নেই।
দুষ্ট লোকেরা প্রশ্ন তুলতেই পারেন, এই সমানের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, তখন তো এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। কিন্তু এটা একপক্ষের কথা। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এই দেশের কিছু মানুষ নাকি নির্বাচনই চান না। তারা চান, তিনি ৫ বছর, ১০ বছর, ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকুন। ফলে আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এই যে, সরকার গত এক বছর ধরে অনবরত বলে যাচ্ছে, এই কালো আইন শুধু না; তার সঙ্গে সব মামলাও বাতিল হয়ে যাবে। আহা! এর চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে।
কিন্তু হচ্ছে তো না। না হোক, এই সরকার আশা তো দিচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তো সেটাও বলত না।
সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেই ২০২৪ সালের নভেম্বরের শুরুতেই বলেছিলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে সব মামলা রহিত (বাতিল) হবে। শুধু কম্পিউটার অফেন্স, যেটা কম্পিউটার হ্যাকিং, ছেলেমেয়ের ঘনিষ্ঠতার ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা- এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকবে। কিন্তু সাংবাদিকতা বা মুক্তমনা মানুষ, ভিন্নমতের মানুষের মন্তব্যের জন্য যেসব মামলা সেগুলো ফেস বাই ফেস রহিত হবে।
তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তো আরেকটু এগিয়ে দিন-তারিখ দিয়ে বলেছিলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে আইনটি বাতিল হবে এবং এই আইনের অধীনে যত মামলা হয়েছে, সব মামলাও বাতিল হবে। শুধু এই আইন নয়, মত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে- এমন সব আইন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তারপর নাহিদ ইসলাম সরকার ছেড়ে গেলেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে দেশ-বিদেশে ঘুরলেন। কিন্তু হায়! ডিজিটাল আইন তার জায়গাতেই রইল।