সিপিআই-এর ২৫তম কংগ্রেসে ডি রাজা সা. সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত

Posted: 05 অক্টোবর, 2025

একতা বিদেশ ডেস্ক : ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিআই এর ২৫তম কংগ্রেস সম্পন্ন হয়েছে। কংগ্রেসে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডি রাজা। ভারতের চন্ডিগড়ে ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া কংগ্রেসে দলটির ১১ জনের জাতীয় কন্ট্রোল কমিশন, ১৩৮ জনের জাতীয় পরিষদ, ৩১ জনের জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং ১১ জনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলী সর্বসম্মতিতে নির্বাচিত হয়। এরমধ্যে জাতীয় পরিষদে ১৩জন প্রার্থী সদস্য। আর, কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীতেও একজন স্থায়ী আমন্ত্রিত নির্বাচিত হন। পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হয়ে ডি রাজা বলেন, “এই পার্টিই প্রথম ভারতে পূর্ণ স্বরাজের আওয়াজ তোলে, এই পার্টিই স্বাধীনতার জন্য অগণিত প্রাণ বলিদান দিয়েছে। এই পার্টিকে দেশকে আরএসএস- বিজেপি মুক্ত ভারত গড়তে সর্বব্যাপক ঐক্য ও তাতে কমিউনিস্ট-বামপন্থী উদ্যোগ গ্রহণে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। যে আরএসএস-বিজেপি এই দেশের স্বাধীনতার জন্য কিছু করেনি বরং ব্রিটিশের দালালি করেছে।” তিনি বলেন, “ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির এই ২৫তম কংগ্রেস সমাপ্ত হল তার জন্মের শতবর্ষে। আরএসএস শতবর্ষের বিপ্রতিপে দাঁড়িয়ে। তাই সেই সিপিআইয়ের প্রধান লক্ষ্য কেন্দ্র থেকে বিজেপি- আরএসএস হঠাও নতুন ভারত গড়। এটিই সময়ের দাবি।” তিনি যখন এই ঘোষণা করেন তখন সমগ্র সম্মেলন কক্ষ ‘মার্ক্সবাদ, লালঝান্ডা, সিপিআই জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। রাজা আরও বলেন, “এই আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে সিপিআই। জনগণের এই দাবি পূরণ করতে হলে চাই কমিউনিস্ট ও বামপন্থিদের নীতিভিত্তিক সার্বিক ঐক্য।” কংগ্রেসে রাজনৈতিক খসড়া প্রস্তাবের জবাবি ভাষণে সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা বলেন, শুধু পুঁজিবাদের বিপদ নয়, বিজেপি ও আরএসএস দেশকে ফ্যাসিবাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির লড়াই শুধু বামপন্থিদের একা পক্ষে সম্ভব নয়, সমস্ত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সঙ্গে আন্দোলনভিত্তিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হলে শ্রেণি আন্দোলনের উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের মধ্যে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। দলিত আদিবাসীদের সামাজিক উন্নয়ন এবং অধিকারের প্রশ্নে বি আর আম্বেদকর যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা অনুসরণ করে আমাদের কাজ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সিপিআই ও বাম রাজনৈতিক শক্তির পর্যালোচনা করে ডি রাজা বলেন, পুঁজিবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং দুর্নীতির বিরোধী আন্দোলনের প্রশ্নে সব রাজ্যে পরিস্থিতি একরকম নয়, জাতীয় স্তরে ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের সঙ্গে বামপন্থিদের বোঝাপড়া একরকম, আবার রাজ্য স্তরে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে একরকম নয়। ফলে সেই রাজ্যের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বিজেপি বিরোধী ঐক্য গড়তে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বিহার, কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। রাজা বলেন, ‘বিজেপি হঠাৎ-দেশ বাঁচাও’ এই কমন স্লোগানের ভিত্তিতে ইন্ডিয়া ব্লক গড়ে উঠে। এই ইন্ডিয়া ব্লককে আরও শক্তিশালী করতে, ইন্ডিয়া ব্লকে সিপিআইয়ের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য রাজ্যে রাজ্যে তৃণমূল স্তর থেকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এদিন সিপিআইয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান পল্লব সেন গুপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের রাজনৈতিক গণ অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। এদিকে সিপিআইএর নতুন সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় পরিষদ থেকে অবসর নিয়েছেন ৭৫ বছর বয়স্ক পার্টির প্রবীণ নেতা ড. নারায়ণ, আজিজ পাশা, নগেন্দ্র ওঝা, পল্লব সেনগুপ্ত। তবে, পল্লব সেনগুপ্তের আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন ও শান্তিÍ আন্দোলনের ভূমিকা বিচার করে তাঁকে সেই ক্ষমতা বজায় রাখার প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী, জাতীয় কার্যনির্বাহী এবং জাতীয় পরিষদে স্থায়ী আমন্ত্রিত নির্বাচিত করা হয়। দলটির ২৫তম কংগ্রেসে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর ১১ জন হলেন- ডি রাজা, অমরজিৎ কাউর, ড. বি কে কঙ্গো, রামকৃষ্ণ পণ্ডা, অ্যানি রাজা, গিরিশ শর্মা, প্রকাশ বাবু, পি সন্দোস কুমার, সঞ্জয় কুমার, পল্লা ভেঙ্কট রেড্ডি, পাঞ্জাব থেকে একজন এবং স্থায়ী আমন্ত্রিত হিসেবে কে রামকৃষ্ণ। কার্যনির্বাহী কমিটির ৩১জন হলেন- কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর ১১ জন এবং আর ভেঙ্কাইয়া, গুলজার সিং গুড়িয়া, বিনয় বিশ্বম, কে পি রাজেন্দ্রন, এম ভীরপান্ডিয়ান, টি এম মূর্তি, কে রামকৃষ্ণ, এ ভাঞ্জা, অন্ধ্রর রাজ্য সম্পাদক যিনি হবেন, এস সম্বাশিবা রাও, পস্যা পদ্মা, স্বপন ব্যানার্জি, রাম নরেশ পান্ডে, জানকি পাসোয়ান, অরবিন্দ রাজ স্বরূপ, পাঞ্জাবের যিনি রাজ্য সম্পাদক হবেন, মহম্মদ সেলিম, সাথী সুন্দরেশ, কনক গগৈ, নিশা সিধু, দীনেশ ভার্সনে। জাতীয় পরিষদের পূর্ণ সদস্য ১২০ ও প্রার্থী সদস্য ১৩ : উপরোক্তরা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সদস্যগণ : স্বপন ব্যানার্জি, প্রবীর দেব, ভ্রান্তি অধিকারী, তপন গাঙ্গুলি, শ্রীকুমার মুখার্জি, গৌতম রায়, বিপ্লব ভট্ট। কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল কমিশনের ১১ জন: কে নারায়না, হারদেব সিং আরশি, মোহাম্মদ ইউসুফ, কল্যাণ ব্যানার্জি (পশ্চিবঙ্গ), দূর্গা ভবানী, আর মুথুরাসন, রাম বহেতি, ইমতিয়াজ আহমেদ, সত্যেন মকেরি, সি এইচ ভেঙ্কটচলম এবং রাম রতন সিং। কে নারায়না কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ায় পদাধিকারী বলে কার্যনির্বাহী ও জাতীয় পরিষদের সদস্য, কন্ট্রোল কমিশনের সকল সদস্যই তেমন জাতীয় পরিষদের সদস্য। সিপিআই-এর এ কংগ্রেসে সর্বকনিষ্ঠ প্রতিনিধি ছিলেন, বিহারের সাবিনা খাতুন, যার বয়স ২১ বছর; পুরুষদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তামিলনাড়ুর গনেশনের বয়স ২৪ বছর। সব চেয়ে বয়স্ক প্রতিনিধি ছিলেন বিহারের নগেন্দ্র ওঝা বয়স ৭৯ বছর। কংগ্রেসের ক্রেডিনশিয়াল রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায়, ৭১৭ প্রতিনিধি পার্টি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৬০১ জন র্পূণ প্রতিনিধি, ৫২ জন বিকল্প প্রতিনিধি ছিলেন। প্রতিনিধিদেও মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৫৮৪ জন, মহিলা ছিলেন ৭৫ জন এবং ১৫ জন রূপান্তরকামী। বিবাহিত প্রতিনিধি ছিলেন ৫১৪ জন এবং অবিবাহিত ৩৪জন; ১১৪ জন প্রতিনিধি বিবাহিত না অবিবাহিত তা জানাননি। ২৭টি রাজ্যের ২৩টি ভাষার প্রতিনিধি সম্মেলনে ছিলেন এর মধ্যে মধ্যবিত্ত শেণির প্রতিনিধি ছিলেন ৩০৮ জন (৪৬.৮ শতাংশ), ক্ষেতমজুর ছিলেন ৪৬ জন (৭ শতাংশ), কৃষক ছিলেন ৯৯ জন (১৫ শতাংশ), শ্রমিক ছিলেন ৪৯ জন (৮ শতাংশ)। এই রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া তফশিলি জাতি ১৩.৫ শতাংশ, তপশিলি উপজাতি ৩.২ শতাংশ। সিপিআইয়ের কংগ্রেসে এমন প্রতিনিধি এসেছিলেন, যিনি পেশায় দেবদাসী, নাম রেনুকা এবং তিনি এনএফআইডব্লুর কর্নাটক রাজ্যের সম্পাদিকা।