পাটশিল্প রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়তে হবে

Posted: 27 সেপ্টেম্বর, 2020

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : সারা বিশ্বে যখন পাট ও পাটজাত পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, সেসময় ব্যক্তিমালিকদের হাতে সম্ভাবনাময় পাট খাত ও সম্পদ তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের ফলে শুধু ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়নি, একইসঙ্গে ৪০ লাখ পাটচাষী, পাটকলের সাথে যুক্ত দোকানদার, শ্রমজীবি মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পথে বসবে। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আজ পাট, পাটশিল্প ও পাটচাষী রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ এসব বক্তব্য রাখেন। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, পিপিপি বা লিজ নয়-আধুনিকায়ন করে পাটকল চালু করা, পাটকলে লোকসানের জন্য দায়ীদের শাস্তি, শ্রমিকদের বকেয়া সমস্ত পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ, পাটকলে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে নগরীর বটতলী রেল স্টেশন চত্বরে এ সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় র্কাযপরিচালনা কমিটির সদস্য মানস নন্দী, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, বাসদ জেলা কমিটির সদস্য আকরাম হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলা কমিটির সদস্য শওকত আলী । সমাবেশ পরিচালনা বাসদ নেতা রায়হান উদ্দিন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘যখন সারা পৃথিবীতে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যখন ইউরোপের ২৮টি দেশ কৃত্রিম তন্তু, পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। বিশ্বে ৫০০০ কোটি পিস শপিং ব্যাগের চাহিদা প্রতি বছর। এর মাত্র ৩- ৫% বাজার ধরতে পারলে আমাদের বর্তমান কারখানাগুলো দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব না, নতুন কারখানা স্থাপন করতে হবে। সেই সময়ে পাটকল বন্ধ করা কার স্বার্থে? রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল লোকসানের জন্য শ্রমিকরা দায়ী নয়, দায়ী সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুলনীতি। এর দায় জনগণ নেবে কেনো? এ সিদ্ধান্ত গণবিরোধী ও গোটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, পাটকল আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় চালু রাখার দাবি জানান।