উৎক্ষেপণ অপেক্ষায় হাবলের শতগুণ শক্তিশালী টেলিস্কোপ ‘রোমান’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রযুক্তি ডেস্ক : নাসার মহাকাশ পর্যবেক্ষণের পরবর্তী বিশেষ টেলিস্কোপটি এ বছরের শেষ দিকেই উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে। নতুন টেলিস্কোপের দেখার পরিধি হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় ১০০ গুণ বিস্তৃত। পরবর্তী প্রজন্মের শক্তিশালী এ মহাকাশ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণের জন্য সেপ্টেম্বর মাসকে নির্ধারণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। এ টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের রহস্যময় ডার্ক এনার্জি ও নতুন নতুন গ্রহ সন্ধানে কাজ করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট। সংস্থাটি বলেছে, তারা ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’, সংক্ষেপে রোমান টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণের জন্য সেপ্টেম্বরের শুরুকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ধরেছে। সেপ্টেম্বর মাসটি রোমান উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য সবচেয়ে আগের সময়। নাসা বলেছে, টেলিস্কোপটি স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটে করে মহাকাশে পাঠানো হবে এবং উৎক্ষেপণ তারিখ কোনোভাবেই ২০২৭ সালের মে মাসের পরে যাবে না। নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও হাবল টেলিস্কোপের ‘জননী’ হিসেবে পরিচিত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামানুসারে ২০১৬ সালে এ টেলিস্কোপটির নাম প্রথমবারের মতো ঘোষণা করে সংস্থাটি। এর আগে, টেলিস্কোপটি ‘ওয়াইড ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে টেলিস্কোপ’ নামে পরিচিত ছিল। এ টেলিস্কোপের আয়নাটি হাবলের আয়নার সমান আকৃতির হলেও তা হাবলের তুলনায় আকাশের অন্তত ১০০ গুণ বড় অংশ একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করতে পারে। ২০২৩ সালে রোমান টেলিস্কোপের সিনিয়র প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট জুলি ম্যাকএনারি বলেছিলেন, রোমান জেমস ওয়েব ও চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির মতো নাসার অন্যান্য মানমন্দিরগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করবে। এসব টেলিস্কোপ মহাকাশের বিরল বিভিন্ন বস্তু শনাক্তের পর সেগুলো জুম করে দেখতে পারে। তবে নিজে থেকে সেগুলো খুঁজে পাওয়ার সক্ষমতা এগুলোর কম। “রোমানের বড় পরিধিতে দেখার সক্ষমতা মহাকাশের এমন অনেক অজানা বস্তু আমাদের সামনে নিয়ে আসবে, যা আমরা আগে কখনও দেখিনি। যেহেতু এর আগে আমরা মহাকাশ অনুসন্ধানে এ ধরনের কোনো মানমন্দির ব্যবহার করিনি ফলে আমরা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের কোনো বস্তু বা মহাজাগতিক ঘটনার সন্ধানও পেয়ে যেতে পারি।” বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে রোমান পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল দূরে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেবে। সেখান থেকে মহাকাশ গবেষণার জন্য টেলিস্কোপটি দুটি প্রধান যন্ত্রের ওপর নির্ভর করবে। প্রথমটি, ৩০০ দশমিক ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা দৃশ্যমান আলো থেকে শুরু করে নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো পর্যন্ত ছবি তুলতে পারে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ‘হাই-কন্ট্রাস্ট করোনাগ্রাফ’, যা তারার তীব্র আলো আড়াল করে এর পাশে থাকা বিভিন্ন এক্সোপ্ল্যানেট বা বহির্গ্রহকে স্পষ্টভাবে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। রোমান মিশনের মূল লক্ষ্য, ‘ডার্ক এনার্জি, বহির্গ্রহ ও জ্যোতির্পদার্থবিদ্যার মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান করা’। কয়েক দশকের গবেষণার পরও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে অবাক করার মতো খুব সামান্যই জানেন, অথচ মহাবিশ্বের প্রায় ৬৮ শতাংশই এ ডার্ক এনার্জি দিয়ে গঠিত। বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন আবিষ্কারের পাশাপাশি রোমান মহাকাশের আরও অনেক ঝকঝকে ও চমৎকার ছবি উপহার দেবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..