
নেত্রকোনা সংবাদদাতা :
শান্তিনিকেতনের বাইরে ১৯৩২ সালে শহরের দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী প্রথম উদযাপন করেছিল নেত্রকোনাবাসী। তারই ধারাবাহিকতা আজও রক্ষা করে চলছে নেত্রকোনাবাসী।
গত ৮ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় উদীচী নেত্রকোনা জেলা শাখার উদ্যোগে ১৬৫তম রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপিত হয় নিজস্ব কার্যালয়ে। এছাড়া জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের উদ্যোগে শহরের সাতপাই এলাকার বানপ্রস্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়।
উদীচী নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরের উপস্থাপনায় বক্তব্য দেন- নেত্রকোনার বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাজমুল হাসান পলক, লেখক ও গবেষক আলী আহম্মদ খান আইয়োব, কবি ও প্রাবন্ধিক স্বপন পাল ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক হারাধন সাহা। নেত্রকোনা বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাজমুল হাসান পলক বলেন, রবীন্দ্রনাথকে যতো আক্রমণ করা হয়েছে; রবীন্দ্রনাথ ততো শক্তিশালী হয়েছেন। এই বাংলার মাটি, ফুল-ফল যতোদিন থাকবে ততোদিন রবীন্দ্রনাথ থাকবেন।
লেখক ও গবেষক আলী আহম্মদ খান আইয়োব বলেন, রবীন্দ্রনাথ নেত্রকোনা না এসেও নেত্রকোনাকে তার অন্তরে স্থান দিয়েছেন। যা আমরা তার বিভিন্ন লেখায় দেখতে পাই।
কবি ও প্রাবন্ধিক স্বপন পাল বলেন, রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করলে রবীন্দ্রনাথের কিছু হবে না। যারা বিরোধিতা করবেন তারাই ঠকবেন।
অধ্যাপক হারাধন সাহা বলেন, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চির জাগরুক হয়ে থাকবেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরোধিতা যতো করা হবে; ততো তিনি উজ্জিবিত হবেন।
এরপর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে হায়দার-শেলী স্মৃতি সঙ্গীত বিদ্যানিকেতনের প্রশিক্ষক শিল্পী ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি করেন শিল্পীরা।
এদিকে কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ নেত্রকোনা জেলা শাখার নিবেদনে ছিলো ‘নিশিদিন ভরশা রাখিস’ । প্রবন্ধ পাঠ করেন কৃষ্ণ রবি দাশ।
সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মতীন্দ্র সরকার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট পূরবী কুণ্ড। সঞ্চালনা করেন শিল্পী ভট্টাচার্য। সমবেত কণ্ঠে সঙ্গীতাজনে ছিলেন স্বপন সরকার, নজরল সঙ্গীত শিল্পী মৌমিতা ধর ও পূরবী কুণ্ড। নৃত্য পরিবেশনা করেন অদ্রিজা, একক গান পরিবেশনা করেন সুশ্মিতা রাহা, রাজশ্রী, সৌহার্দ্য ও যতীন সরকারের কন্যা সুদ্বীপ্তা সরকার। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
এছাড়া শহরের পাবলিক হলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহৎ পরিসরে ১৬৫তম রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপিত হয়।