যুব ইউনিয়নের ১০ম জাতীয় সম্মেলন লুটপাট, সাম্প্রদায়িকতা-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তীব্র যুব আন্দোলনের ডাক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

যুব ইউনিয়নের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক অজয় রায় [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক: কার্যকর যুব আন্দোলন দিয়েই দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে বলে মনে করেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায়। সরকার ঘোষিত মধ্যম আয়ের দেশের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হয়েছে বলে সরকার যতই আত্মতৃপ্তি লাভ করুক বাস্তবতার সাথে এর কোনো মিল নেই। গত ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অজয় রায় যুব ইউনিয়নের দুইদিনব্যাপী দশম জাতীয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী একের পর এক মুক্তচিন্তার প্রগতিশীল লেখকদের হত্যা করছে। সরকার তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত কোনো একটি হত্যাকাণ্ডেরও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে না পারলে এমন হত্যাকাণ্ডের পুণরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে বলেও মনে করেন তিনি। অধ্যাপক রায় বলেন, যুব আন্দোলনের মাধ্যমেই এর জবাব দিতে হবে। আন্দোলন ছাড়া এখন আর কোনো বিকল্প নেই। যুব ইউনিয়নকে এ আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। সংগঠনের সভাপতি যুবনেতা আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, আদিবাসী আন্দোলন নেতা মন্থেলা রাখাইন, যৌন নীপিড়নবিরোধী আন্দোলন পাল্টা আঘাতের নেতা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি হাসান তারেক। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদ চেয়ারম্যান বিকাশ সাহা, আহ্বায়ক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ঢাকা মহানগর যুব ইউনিয়নের সভাপতি ত্রিদিব সাহা, কেন্দ্রীয় যুবনেতা খুজিস্থা বেগম জোনাকী, খান শিমুল প্রমুখ। সম্মেলনের বক্তারা বলেন, সরকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের আওয়াজ দিয়ে সরকার তার ব্যর্থতাকে আড়াল করতে চাইছে। কর্মসংস্থানের অভাবে হাজারো যুবক জীবন বাজি রেখে সমুদ্র পথে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। সরকারি দলের পরিচয়, সুপারিশ ও নগদ টাকা ছাড়া এখনও চাকরী হয় না। দলীয়করণ লুটপাট মাত্রা ছাড়িয়েছে। সাম্প্রদায়িক জঙ্গীগোষ্ঠী বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, একের পর এক মুক্তমনা লেখক, ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে। আর সরকার সরকার প্রকাশ্যেই মুক্তমনাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে অনাকাক্সিক্ষতভাবে প্রলম্বিত করছে। ট্রাইব্যুনাল দুটি থেকে একটির কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়ে তৃনমূলের বিচার প্রার্থীদের আশাহত করা হয়েছে। অন্যদিকে জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের গণদাবিও আজ উপেক্ষিত। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাত তুলে আইন করে সরকার নাগরিকের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, গণতন্ত্র আজ ব্যক্তি এবং দলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাম্রাজ্যবাদ ও বহুজাতিক কোম্পানির কাছে মুচলেকা দিয়ে অযৌক্তিকভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে চলছে সরকারি ছাত্র ও যুব সংগঠনের বেপরোয়া সন্ত্রাস। এভাবে চলতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। সম্মেলন থেকে যুব ইউনিয়ন ‘ঘুষ ছাড়া চাকরি চাই’ দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে সবাইকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সারাদেশ থেকে তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন সম্মেলনে। ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..