স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ নানা সংকটে কয়রাবাসী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : খুলনার কয়রা উপজেলার স্থানীয়রা লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ জলবায়ুুজনিত বিপর্যয় স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ নানা সংকটে পড়েছে। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা কয়রা উপজেলা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ জলবায়ুুজনিত বিপর্যয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিবেশগত এসব চ্যালেঞ্জ নারী ও কিশোরীদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলছে, যার কারণে বিদ্যমান সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য আরো গভীর ও কিশোরী-নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ বিভিন্ন সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। এদিকে, উপকূলীয় কয়রা উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর যাওয়ার রাস্তা পর্যাপ্ত নয় ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গর্ভবর্তী নারী, বয়স্ক মানুষ ও শিশু-কিশোরীরা। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীদের ঘর ও পরিবারের কাজ বেড়ে যায়। অনেক সময় তারা মানসিক ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হন। সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এ তথ্য ওঠে এসেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রুরাল ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার সুন্দরবনের কোলঘেঁষা কয়রা সদর ইউনিয়ন, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৬১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, এ তিন ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া ৪৯ শতাংশ মানুষ বলেছে, স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ ও শিশু-কিশোরীরা। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীদের ঘর ও পরিবারের কাজ বেড়ে যায়। অনেক সময় তারা মানসিক ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হন। গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে নারী ও কিশোরীদের দুর্যোগজনিত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সম্পদের ঘাটতি ও সামাজিক জটিলতা নারী ও কিশোরীদের আরো বিপন্ন করে তোলে। এছাড়াও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পুরুষদের কর্মসংস্থানের জন্য অন্যত্র চলে যাওয়া নারীপ্রধান পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে; যেমন—সহায়তা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এবং দায়িত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। যার ফলে দারিদ্র্য বেড়ে যায়; নারীদের সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা আরো কোণঠাসা হয়, যা তাদের ক্ষমতায়ন ও সহনশীলতা গঠনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানোর রাস্তাগুলো এখনো অনেক কষ্টসাধ্য। কয়রা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কমিউনিটি প্রতিনিধি তাজনীন নাহার বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতি নারীদের প্রতি সহিংসতার প্রবণতা বেড়ে যায়। এছাড়া শিক্ষাপ্রাপ্তির সুযোগ কমায় ও দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে, ঘূর্ণিঝড়ের সময় ও পরবর্তী দিনগুলোতে গর্ভবতী ও অসুস্থ নারীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কমিউনিটি প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় কয়রা উপজেলার নারী ও কিশোরীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো মালটিপারপাস করাসহ সেখানে নারীদের জন্য আলাদা স্যানিটেশন ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রের যাওয়ার রাস্তা নারী ও শিশুদের জন্য সহজে পৌঁছানোর উপযোগী করা এবং ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্বে দল গঠন করে তাদের মতামত ও নেতৃত্বকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তকরণ, নারীদের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি, পানির সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যা সমাধানে সুপেয় পানির উৎস স্থাপন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বন্যা সহনশীল টয়লেট গড়ে তোলা, ঘূর্ণিঝড়ের সময় গর্ভবতী ও অসুস্থ নারীদের চিকিৎসা পেতে অনেক কষ্ট হয়, যার জন্য স্পিডবোট অ্যাম্বুলেন্স, মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষিত নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ‘ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল ফান্ড’ গঠন, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণে নষ্ট রাস্তা, ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, আর্থিক সমস্যার সমাধান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রিমোট এলাকায় অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, যাতায়াত উন্নয়ন ও স্কুলে ফেরার জন্য ভাউচার চালু করা, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন নিশ্চিতকরণ এবং নারীদের নেতৃত্বে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও নারীদের নেতৃত্বে স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করার দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..