কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিবাদের প্রতীক গাজার সেই ফতিমা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : কান চলচ্চিত্র উৎসবে জেগে রয়েছে গাজায় আগ্রাসনের প্রতিবাদ। গাজায় নিহত চিত্রসাংবাদিক ফতিমা হৌসেনা প্রতিবাদের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে রইলেন মৃত্যুর পরও।গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের কানে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র উৎসব। এই উৎসবের সমান্তরালে চলে চলচ্চিত্র প্রর্শনী ‘অ্যাসিড’। দেখানো হচ্ছে তথ্যচিত্র ‘পুট ইওর সোল অম ইওর হ্যান্ড অ্যান্ড ওয়াক’। এই তথ্যচিত্রে গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফতিমা। গত ১৬ এপ্রিল গাজার উত্তরে পরিবারের ১০ জনের সঙ্গে ফরিমা নিহত হন ইজরায়েলের ফেলা বোমায়। তার আগে বলেছিলেন যে গাজাবাসীদের হত্যা করেও ইজরায়েলের এই অন্যায় লুকিয়ে ফেলা যাবে না।কান চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চকে প্রতিবাদের মঞ্চ করে তুলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজকরা। সিনেমা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাড়ে তিনশোর বেশি প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা যৌথ বিবৃতিতে ইজরায়েলের হানাদারির নিন্দা করেছেন। নিন্দা করেছেন গাজায় গণহত্যার। শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একাংশের নীরবতার নিন্দাও করেছেন প্রকাশ্যে। সই করেছেন রিচার্ড গেরে, সুসান সারান্ডনের মতো হলিউডের বিখ্যাত শিল্পীরা। সই করেছেন স্পেনের পরিচালক পেড্রো অ্যালমোদোভার। কানে অতীতের পুরস্কার জয়ী রুবেন ওস্তলুন্ড, মাইক লেই বা কোস্তা গাভরাও পিছিয়ে থাকেননি। ‘পুট ইওর সোল অন ইওর হ্যান্ড অ্যান্ড ওয়াক’ সিনেমার পরিচালক ইরানের সেপিদে ফারসি। তুলে ধরেছেন ঘরবাড়ি, ভালবাসার সব কিছু হারানো প্রায় ২৩ লষ নারী-শিশু-বৃদ্ধ সহ গাজার বাসিন্দাদের যন্ত্রণার ইতিবৃত্ত। ঘর হারিয়ে চলে যাচ্ছেন অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে সেখানে পড়ছে বোমা। ইজরায়েলের সেনা হামাস আছে যুক্তি দেখিয়ে আক্রমণ করছে হাসপাতালে। সদ্যোজাতেরা অক্সিজেনের অভাবে মরে যাচ্ছে। ত্রাণের অভাবে অপুষ্ট শিশুদের সারি বাড়ছে। বিশ্ব জনমত বারবার আছড়ে পড়ছে রাস্তায়। প্রতিবাদের স্বর জোরালো। কিন্তু মানবিক বিপর্যয় চলছে। কানের মঞ্চে সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন রবার্ট ডি নিরো। লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’। নিজের ভাষণে ডি নিরো সমালোচনা করেছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির। কানের উৎসবে ছবি প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই ইজরায়েলের বোমায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ফতিমা। এখন কানে দাবি উঠেছে আয়োজকদের থেকে ফতিমার হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হোক। ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী রচিদা দাতি বলেছেন, ‘‘রাজনীতি এবং সংস্কৃতির সহাবস্থান নতুন কথা নয়। সৃজনের ওপর আক্রমণের সময়ে শিল্পীর স্বাধীনতার ওপর ভরসা রাখা উচিত।’’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..