বগুড়া জেলা উদীচী কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ছিঁড়ছেন হামলাকারীরা [ ছবি: ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন ]একতা প্রতিবেদক :
বগুড়ায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন কর্মসূচিতে “ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ”র ব্যানারে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলা শেষে উদীচী জেলা কার্যালয়ের নামফলক খুলে ফেলে এবং জেলা কার্যালয় ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় উদীচী ও সমমনা বিভিন্ন সংগঠনের ১০ জন আহত হয়েছেন।
হামলায় ছাত্রনেতা জয় ভৌমিক, আফ্রিক হাসান প্রান্ত, যুবনেতা সাদ্দাম হোসেন, শাওন পাল, ক্ষেতমজুর নেতা শুভ শংকর গুহ রায়, শ্রমিক নেতা শামীম হোসেন মোল্লা, সিপিবি নেতা সাজেদুর রহমান ঝিলাম প্রমুখ আহত হয় বলে জানা যায়।
গত ১৪ মে বিকালে শহরের সাতমাথা ও শহীদ খোকন পার্কে এ ঘটনা ঘটে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে প্রতিবাদ বিবৃতি দেয় উদীচী, সিপিবিসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন। সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ নামধারী উগ্রপন্থীদের হামলা এবং পরবর্তীতে উদীচীর জেলা কার্যালয় ভাঙচুরের প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিদ্বয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, উদীচীর পূর্ব ঘোষিত সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া কর্মসূচিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে, ব্যানার টাঙ্গিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাতমাথা মুক্তমঞ্চ দখল করে নেয়। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া ভন্ডুল করার জন্য মুক্তমঞ্চে দখল করলে উদীচী কোন সংঘর্ষে লিপ্ত না হয়ে কর্মসূচী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ খোকন পার্কে স্থানান্তরিত করে। শহীদ খোকন পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কর্মসূচি স্থানান্তর করে সাধারণ জনতাসহ উদীচীর কর্মীরা জড়ো হলে হামলাকারীরা মাইক ও সাউন্ড স্থাপনে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে মাইক ছাড়া সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু করলে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ারত অবস্থায় উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় এবং আমাদের নেতাকর্মীদের মারপিট করতে থাকে।
এরপর, উপস্থিত পুলিশের বাধা প্রদান অগ্রাহ্য করে আক্রমণ ও হামলা অব্যাহত রাখলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে উদীচীর নেতাকর্মীসহ সমবেত সকলে সাতমাথাস্থ উদীচী জেলা কার্যালয়ে আসলে সেখানেও হামলাকারীরা উগ্র স্লোগান ও মিছিলসহ জেলা কার্যালয়ে এসে নেতাকর্মীদের উপরে পুনরায় সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়।
উদীচী বগুড়া জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান (বিপ্লব) বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে আসা লোকজনের মধ্যে এনসিপির নেতা-কর্মীসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছিলেন। হামলার সময় পুলিশ নির্বিকার ছিল।
নেতারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ স্বাধীনতাকামী মানুষ রক্ত দিয়ে জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও স্বাধীন ভূখণ্ড অর্জন করেছে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনগণ স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা জীবন দিয়ে হলেও অক্ষুণ্ণ রাখবে। কোনো মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীর ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না।
স্থানীয়দের মতে, উদীচীর শিল্পীরা প্রতিবাদ করলে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের লোকজন হামলা করে। তখন দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের লোকজন জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেওয়াদের মারধর শুরু করে। তবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে কারা এ হামলা চালিয়েছে, এ প্রসঙ্গে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি।