ধর্ম, বর্ণ, জাত ভুলে মানুষকে জেগে উঠতে হবে

আশরাফুল ইসলাম স্রোত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

লংমার্চের মাধ্যমে শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থান নয় বরং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাদেরকে সোচ্চার করা যায় এবং অপরাধের প্রতিবাদ করার জন্য উদ্ধুদ্ধ করা যায়। বাংলাদেশ জুড়ে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছিলো তারই ধারাবাহিকতায় শাহাবাগ থেকে নোয়াখালী লংমার্চ এর আয়োজন করা হলে নতুন এক অভিজ্ঞতা নিতে এবং এই আন্দোলনে সম্পূর্ণ ঐক্য প্রকাশ করে প্রথমবারের মতো আমিও লংমার্চে যোগ দেই। স্লোগানের সাথে লংমার্চ শাহবাগ, প্রেসক্লাব, গুলিস্তান, চাষাড়া, সোনারগাঁও এলাকায় সমাবেশ করে কুমিল্লা পৌছে। কুমিল্লায় গণজমায়েতের সাথে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী শহরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আমরা রাত্রিযাপন করি। একই ছাদের নিচে এক হলরুমে এতো মানুষ একসাথে ঘুমানোর অভিজ্ঞতা অন্যরকম। পরদিন সকালে ফেনীতে সমাবেশ শেষে বাসে উঠার সময় ফেনীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগ আমাদের ওপর আক্রমণ করে এবং আমাদের বাসে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। আমাদের অনেক সহযোদ্ধা এই আক্রমণে আহত হয়েছে। অনেকে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। এই হামলার পরও আমরা দমে না গিয়ে, মনোবল শক্ত রেখে সাহস নিয়ে আমরা নোয়াখালীর মাইজদীতে সফল গণসমাবেশ করি। সমাবেশ শেষে রাতে আমরা ঢাকা এসে পৌঁছাই। আমরা নারীদের জন্য সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চাই। ধর্ষণ, হত্যা, অপরাধের অপসংস্কৃতি ভেঙ্গে আমাদের সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ভাঙতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ধর্ম, বর্ণ, জাত সব ভুলে মানুষকে জেগে উঠতে হবে। জাগাতে হবে তবেই আমরা সেই সোনার বাংলা দেখতে পাবো। যে বাংলা হবে সন্ত্রাসমুক্ত। সত্যিকার অর্থে স্বাধীন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..