১৫৫(৪) ধারাকে বিলোপ আমরা করেই ছাড়ব

ইমতিয়াজ আহসান রাফিন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

গত ১৬-১৭ মার্চ ধর্ষণ বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যানারে ৯ দফা দাবিত ঢাকা থেকে নোয়াখালী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের ৯ দফা দাবি ছিলো, সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ণ বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। আমরা দাবি করেছি- পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ণ বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫(৪) ধারাকে বিলোপ আমরা করেই ছাড়ব। আমি মনে করি একজন মানুষ হিসেবে সমাজে নারী পুরুষের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। একজন নারীর জন্য পরিবার তথা সমাজ থেকে যে বিধিনিষেধ বেধে দেয়া হয়েছে সেগুলো থাকবে না। একজন নারী তার প্রয়োজনে রাত ৩টার সময় রাস্তায় নামলেও এসমাজ তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। আমি চাই একজন নারী এ সমাজে নারী পরিচয়কে ছাপিয়ে একজন মানুষ হিসেবে সমাজে তার সম্মান পাবে। আমাদের ব্যানারটি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, এখানে বিচারহীনতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। যেটা এদেশে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। এদেশে বিগত ১১ব ছর যাবৎ বিনা ভোটে নির্বাচিত সরকার তার ছত্রছায়ায় সহস্র অন্যায় সংগঠিত করেছে। এবং আমাদের লংমার্চ যখন ফেনীর শহীদ মিনার থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে এগোচ্ছে তখন এই সরকারের পালিত গুণ্ডারা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ এবং ডিবি প্রথমে আমাদের মিছিলে হামলা করে এবং পরবর্তীতে আমাদের বাসে হামলা করে। এবং আমি সহ ২৫জন আহত হয়। এদ্বারা সরকার তার চরিত্র জনগণের মাঝে তুলে ধরেছে। এবং সরকার চায় তাদের দোষ-ত্রুটি বা তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার আগে সেটা নষ্ট করতেই হবে। সেটা হোক জনগণের উপর লাঠি তুলে কিংবা গুম খুন করে। পরিশেষে এটাই বলতে চাই, নারীর জন্য সুন্দর, ভয়হীন সমাজ তৈরির যে আন্দোলন, সে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা জীবন দিয়ে হলেও এ সমাজ এ সিস্টেমকে ভেঙে নারীকে তার স্বাধীন সমাজ এনে দেবো। এ আন্দোলনে আপনারাও যুক্ত হবেন বলে আশা রাখি। সবাইকে ধন্যবাদ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..