নিজেকে ঘরে বন্দী রাখতে পারিনি

মৈত্রী ক্যাডেট

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সারাদেশে চলমান ধর্ষণ ও রাষ্ট্রীয় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে রাজপথে গড়ে ওঠা দুর্বার আন্দোলনে নিজেকে ঘরে বন্দী রাখতে পারিনি। সেই ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী পিতা-মাতার হাত ধরে রাজপথে আছি বিভিন্ন অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন ও সর্বোপরি ধর্ষণের বিরুদ্ধে। তাই এবার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল সংগঠন সমূহের যৌথ উদ্যেগে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি দারুণ ক্ষোভে। তারই ধারাবাহিকতায় এবং যৌক্তিক নয় দফা দাবির সর্মথনে রাজপথের বিভিন্ন স্থানে সোচ্চার ছিলাম। এরই মাঝে ধর্ষকের সমর্থকেরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে। কিন্তু সেই হুমকিকে তুচ্ছজ্ঞান করে গত ১৬, ১৭ অক্টোবর ঢাকা থেকে নোয়াখালী অভিমূখী লংমার্চে বাবা-মাসহ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সহযোদ্ধাদের সাথে অংশগ্রহণ করেছি। ঢাকা থেকে কুমিল্লা অবধি যাএাপথের বিভিন্ন স্থানে আমাদের লংমার্চকে স্বাগত জানিয়েছে সমাজের সর্বস্তরের জনগণ। ১৭ তারিখ শনিবার ফেনীর শহিদ মিনারে আমাদের লংমার্চ পৌঁছানোর পর ধর্ষকদের সমর্থকেরা তীব্র বাধার সৃষ্টি করে এবং অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে আমাদের মিছিল সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল সেইসময় গুন্ডাবাহিনী মিছিলের পিছন সারিতে অতর্কিত হামলা করে এবং অপেক্ষমান বাস ভাংচুর করে। ছাত্র ইউনিয়নের সহযোদ্ধাদের বিপুল বিক্রমের কাছে পরাস্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র লাঠিসোটা ও ইট পাটকেল দিয়ে আমাদের বাসের উপর হামলা করে। এখানে বলা বাহুল্য, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের যোদ্ধাদের একক প্রচেষ্টায় তাদের অসীম সাহসের কাছে ওই গুন্ডা, সন্ত্রাসীবাহিনী পিছপা হতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা যে ৯ দফা দাবি জানিয়েছি তা আমাদের দেশে এক বৃহৎ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। দেশে যে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের সংস্কৃতি চলছে তা হয়ত কিছুটা কমে আসবে। ভবিষ্যতে নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণে এই আন্দোলনে সমগ্র দেশবাসীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..