যুদ্ধাপরাধী কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুমণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সাঈদ আহমেদ বলেন, ২১ অক্টোবর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পেয়েছেন তারা। পরে মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব ও ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আনা তার আপিল শুনে এ রায় দিয়েছিলেন। এ মামলায় কায়সারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সদ্য প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে সৈয়দ কায়সারের মৃত্যুদণ্ডের যে রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দিয়েছিল, আপিলে সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়েও তা বহাল থাকে। কায়সারের আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হলেও তিনটি অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুমণ্ড বহাল থাকে। এক সময়ের মুসলিম লীগ নেতা কায়সার ছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর একজন বিশ্বস্ত সহযোগী। ‘কায়সার বাহিনী’ নামে দল গড়ে তিনি যেসব যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছেন, সেজন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের মানুষ তাকে একজন কুখ্যাত ব্যক্তি হিসেবেই জানেন। ২০১৪ সলের ২৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, কায়সার এতোটাই নগ্নভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিলেন যে নিজের গ্রামের নারীদের ভোগের জন্য পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিতেও কুণ্ঠিত হননি। সেই রায়ে সাতটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কায়সারকে মৃত্যুমণ্ড দেয়, যার মধ্যে দুই নারীকে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। এই দুই বীরাঙ্গনার মধ্যে একজন এবং তার গর্ভে জন্ম নেয়া এক যুদ্ধশিশুও এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। আপিলের রায়ে তিনটি অভিযোগে কায়সারের মৃত্যুমণ্ড বহাল থাকে। আর তিনটি অভিযোগে তার প্রাণদন্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারামণ্ড দেয়া হয় । তিনটি অভিযোগে আমৃত্যু কারামণ্ড এবং একটি অভিযোগে সাত বছরের কারামণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হওয়ার পর এটি ছিল আপিলে আসা নবম মামলা, যার চূড়ান্ত রায় হলো। নিয়ম অনুযায়ী আসামি এই রায় রিভিউ আবেদন করতে পারবেন। তাতে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত না বদলালে আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। তাতেও তিনি বিফল হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাজা কার্যকরের পদক্ষেপ নেবেন। ২০১৩ সালের ১৫ মে ট্রাইব্যুনাল কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় মুসলিম লীগের এই সাবেক নেতাকে। বয়স ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিনও দেয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের ১৬টি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পরের বছর ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। বিচার শেষে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কায়সার।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..