আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা নৌযান শ্রমিকদের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে নৌযান শ্রমিকদের চলমান অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরকার, নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে মালিকপক্ষ পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মাসিক খাদ্যভাতা প্রদানে সম্মত হন। এক্ষেত্রে এক হাজার টনের নিচের জাহাজের শ্রমিকরা মাসিক এক হাজার, দেড় হাজার টনের নিচের জাহাজের শ্রমিকরা মাসিক এক হাজার ২০০ এবং দেড় হাজার টনের ওপরের জাহাজের শ্রমিকরা মাসিক দেড় হাজার টাকা করে খাদ্যভাতা পাবেন। যাত্রীবাহী নৌযানের শ্রমিকদের খাদ্যভাতার বিষয়টিও এক মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন মালিকরা। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর আবু জাফর মো. জালাল উদ্দিন এবং বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক প্রমুখ। অপরদিকে ধর্মঘট আহ্বানকারী শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক এবং নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলমসহ দুই সংগঠনের নেতারা বৈঠকে যোগ দেন। অন্যদিকে মালিকদের পক্ষে যাত্রী পরিবহন (যাপ) মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হকসহ অন্যান্য নেতারা বৈঠকে ছিলেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া জানান, বৈঠকে মালিকপক্ষ নৌযান শ্রমিকদের অন্যতম দাবি খোরাকি ভাতা (খাদ্যভাতা) দিতে রাজি হওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন তারা। আলাদাভাবে ধর্মঘট আহ্বানকারী নৌযান শ্রমিকদের অপর জোট নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন বলেন, মালিকপক্ষ খাদ্যভাতা প্রদানের দাবিটি মেনে নিয়ে বাকি দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এদিকে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল জেলার সহসভাপতি একিন আলী মাস্টার এদিন সন্ধ্যায় বলেন, ‘ঢাকায় আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করেছেন। সেখানেই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে এই খবর মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম আমাদের জানিয়েছেন। আমরা আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছি। বিস্তারিত হয়তো আরো পরে জানাতে পারব।’ এর আগে দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নৌশ্রমিকদের মূল দাবি খোরাকি ভাতা অবশ্যই তাদের ন্যায্য দাবি। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ভাতাটা ন্যায্য। এর আগেও শ্রমিকরা ধর্মঘটে গিয়েছিল। আলোচনা করে সমাধান হয়েছে। শ্রমিকরা অসহায়। তারা শ্রম দিয়ে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করে। নৌযান শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে চাঁদাবাজি-ডাকাতি বন্ধ করা, ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস এবং মালিক কর্তৃক খাদ্যভাতা প্রদান, সব নৌযান শ্রমিকের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ, এনডোর্স, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্র্নিধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ, প্রত্যেক নৌশ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, নদীর নাব্য রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন, মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিতরণ ও নবায়ন, বেআইনি নৌচলাচল বন্ধ করা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..