পাটকল রক্ষার কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, গ্রেপ্তার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : খুলনায় পাটকল রক্ষায় শ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় আটক করা হয় ১৫ জনকে। শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে শ্রমিকদের লাঠিপেটা করেছে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর দাবিতে খুলনা পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ গত ১৯ অক্টোবর ইস্টার্ন জুট মিল গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং পরে যশোর-খুলনা সড়ক অবরোধ করে। অবরোধ শুরুর প্রায় আধাঘণ্টা পর পুলিশ বাধা দেয়।পুলিশ তাদেরকে মহাসড়ক থেকে তুলে দিতে গেলে শ্রমিকরা প্রতিরোধ করেন। প্রথমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়, পরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ ধরে সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে নারী শ্রমিকসহ আন্দোলনকারীদের ১০ জন আহত হয়। এ সময় সিপিবি নেতা এস এ রশীদ, ছাত্র নেতা রবিসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে বন্ধকৃত ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু, আধুনিকায়ন করা, অবসরপ্রাপ্ত, কর্মরত, বদলী, অস্থায়ী সব শ্রমিকের বকেয়া পাওনা এককালীন পরিশোধ করাসহ ১৪ দফা দাবিতে ইস্টার্ন জুট মিলের গেটে একত্র হয়ে সমাবেশ করে শ্রমিকরা। পরে তারা খুলনা-যশোর মহাসড়কের আটরা শিল্পাঞ্চলের পথ অবরোধ করেন। এর ফলে খুলনামুখী গাড়ি আটকা পড়ে এবং খুলনা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো বিকল্প পথ ধরে চলাচল করে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অবিলম্বে পাটকল চালুর দাবি জানিয়ে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের নেতারা বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে পাটকলে লোকসান হয়েছে। লুটপাটের জন্যই পাটকল ও পাটশিল্প আজ ধ্বংসের পথে। অথচ বিজিএমসির দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে সৃষ্ট লোকসানের দায় সাধারণ পাটকল শ্রমিকদের ওপর চাপাচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের অন্যায় শাস্তির ফল ভোগ করছেন শ্রমিকেরা। তারা আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেয়ায় অনেক শ্রমিকের জীবন চলছে মানবেতরভাবে। কর্মহীন এই শ্রমিকদের কেউ কেউ সহজ পেশা হিসেবে রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ ফল বিক্রেতা কিংবা নির্মাণ শ্রমিকের কাজেও নেমেছেন। কোনো কাজ জোগাড় করতে না পেরে এখনও বেকার রয়ে গেছেন অনেকে। শ্রমিক নেতারা বলেন, বিনা উসকানিতে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ। এতে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন। বিজেএমসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি এবং ভ্রান্ত নীতির কারণে পাটশিল্পে লোকসান হচ্ছে। লোকসানের এই দায় নিষ্ঠুরভাবে শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। লুটপাটের এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে। একইদিন বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকে পাটকল ও পাটচাষ অঞ্চল, বিভাগে বিভাগে এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল খুলে দেয়া ও আধুনিকায়নের দাবিতে সড়ক ও রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে ঢাকায় পুরানা পল্টন মোড় অবরোধ করা হয়। অবরোধ চলাকালে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউসিএল’র সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল্লাহ সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, গণসংহতির জুলহাসনাইন বাবু। সভা পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান। নেতৃবৃন্দ বলেন, এ সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার দাবি করলেও তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বৃহৎ শিল্প কলকারখানা জাতীয়করণের সিদ্ধান্তকে পদদলিত করে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের নিওলিবারেল প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করে সকল কল-কারখানা বিরাষ্ট্রীয়করণ করছে। শাসকদল বিরাষ্ট্রীয়করণের মাধ্যমে জনগণের সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করে নিজেদের দলীয় লোক ও সমর্থকদের ভোগ দখলে দিতে চায়। বক্তারা বলেন, সরকার দাবি করে পাটকলগুলো স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪৮ বৎসরে ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রথমত লোকসানের দায় শ্রমিকদের নয়। দায়ী বিজেএমসি, পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। অথচ তাদের চাকুরিচ্যুত করা হয়নি। পাট মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দেয়া হয়নি। কিন্তু ৫২ হাজার স্থায়ী, অস্থায়ী শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। ১,২০০ কোটি টাকা খরচ করে পাটকলসমূহ আধুনিকায়ন না করে ৫,০০০ কোটি টাকা দিয়ে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশে পাটকল বন্ধ করে দেয়া হলেও মোদীর রাজ্য ভারতের গুজরাটের আহমদবাদে পাটকল গড়ে তোলার জন্য আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। আর বাংলাদেশের তোষামোদী সরকার ভারতের পাটকল লোর কাঁচাপাট সরবরাহের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশের পাটকল বন্ধ করে দিচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সরকারের এ ধরনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পাটকলসমূহ বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..