‘ধর্ষকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও সরকারি বাহিনী’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : লংমার্চে দফায় দফায় হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বলেছে, হামলার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে পুলিশ ও সরকারি বাহিনী এখন সরাসরি ধর্ষকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ঢাকা-নোয়াখালী লংমার্চ ফেনীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগ-পুলিশের চারদফা হামলার শিকার হয়েছে? ১৬ অক্টোবর সকালে ফেনী শহীদ মিনারে সমাবেশ চলাকালীন সময়ে গ্রাফিতি করতে গিয়ে পুলিশের মারধরের শিকার হয় এক ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী। পরে সমাবেশ শেষে লংমার্চের মিছিল বাসের দিকে এগোতে থাকলে দুই দফায় হামলা করে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। পরে লংমার্চের কর্মীরা বাসে উঠার পর পুলিশের উপস্থিতিতে আবারও অতর্কিত হামলা হয়। চারদফা হামলায় আহত হয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক সাদাত মাহমুদ, সহ-সভাপতি জাওয়াদুল ইসলাম, খিলগাঁও থানা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমা, কবি নজরুল কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রীজম ফকির, সূত্রাপুর থানা ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আসমা, লালবাগ থানার নেতা মাহমুদা দীপা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রী শিখর নন্দী, ঢাকা মহানগরের কর্মী ফাহমিদা ও আনিকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আসমানি আশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী নিজামুদ্দিন হৃদয়, মাঈনউদ্দিন ও ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজা। ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লংমার্চে এই হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ফেনীতে লংমার্চে হামলা ধর্ষণের পক্ষে সরকার ও পুলিশের অবস্থান আরো পরিষ্কার করে দিয়েছে। আজ ফেনীর মানুষ আমাদের যেভাবে সাথে থেকেছে তাতে এটা স্পষ্ট যে, এই সরকারের দিন ঘনিয়ে আসছে। একের পর এক দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকার ধর্ষকদের পক্ষে তার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের জানিয়ে দেয়ার পালা। আমরা তাই এই অমানিশায়, ফেনীর পথ ধরে সারাদেশের মানুষদের এক হওয়ার আহ্বান জানাই। হামলা করে জনতার কণ্ঠরোধ করা যাবে না: ধর্ষণ ও বিচারহীনতা বিরোধী ঢাকা-নোয়াখালী লংমার্চে পুলিশি মদদে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ হরণ করে যে অপশাসন জনতার উপর চাপিয়েছে তার বিরুদ্ধে ক্রমশ তীব্র হওয়া গণরোষ কোনোভাবেই তারা এড়াতে পারবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৯ দফা দাবিতে গড়ে ওঠা ধর্ষণ ও বিচারহীনতা বিরোধী আন্দোলন দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের আন্দোলন। এ আন্দোলন সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতাকে যথাযথভাবে স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে বিধায় সরকারি মহল শুরু থেকেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং হামলা-নির্যাতনের পথ অবলম্বন করেছে। ইতোমধ্যে সরকার আন্দোলনের ৯ দফা দাবির প্রতি কর্ণপাত না করে বরং আইনে ফাঁসির বিধান যুক্ত করে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। তা সত্ত্বেও সকল বাধা মোকাবেলা করে গতকাল শুরু হওয়া লংমার্চ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সুপ্ত অপমানবোধের তীব্র প্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। এই সফল লংমার্চ প- করতে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা আজ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে বাম জোট সমন্বয়ক আরও বলেন, হামলা করে গণমানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দমন করা যাবে না। বরং এসকল হামলা-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও ব্যাপক রূপ লাভ করবে। তিনি দেশের আপামর বিবেকবান সচেতন মানুষকে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..