লংমার্চে দফায় দফায় হামলা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বাধীন মোর্চা ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে নোয়াখালী লংমার্চে ফেনীতে দফায় দফায় হামলা হয়েছে। পুলিশ সেসময় কখনো সহযোগী কখনো দর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল বলে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন। গত ১৭ অক্টোবর ফেনীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আগেরদিন ঢাকা থেকে লংমার্চ নোয়াখালীর পথে রওনা হয়েছিল। ১৭ তারিখ দুপুরে ফেনী শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মোড় এলাকায় লাঠিসোঁটা ও ইট নিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী এই হামলা চালায় বলে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন। । হামলাকারীরা লংমার্চকারীদের ছয়টি বাস ভাংচুর করেছে। আহত হয়েছেন অনেকে। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর লংমার্চকারীরা নোয়াখালীর পথে রওনা হন, যেখানে বিকালে সমাবেশের মধ্য দিয়ে দুদিনের এই কর্মসূচি শেষ হয়। নোয়াখালীতে সমাবেশে ফেনীর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ১৯ অক্টোবর সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ২১ অক্টোবর সারাদেশে রাজপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে ১৬ অক্টোবর কুমিল্লাতে অবস্থান নিয়েছিল ৫ শতাধিক লংমার্চকারী; সেখানে থেকে পরদিন সকালে আসে ফেনীতে। সকাল পৌনে ১০টায় লংমার্চের বহরটি ফেনীর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক হয়ে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শহীদ বেদিতে তারা গণসংগীত ও পথনাটক উপস্থাপন করে। সেখানে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আরেক অংশের সভাপতি আল কাদরী জয়। সমাবেশ শেষ করে দুপুর ১২টার দিকে লংমার্চকারীরা শহরের শান্তি কোম্পানি মোড় এলাকায় যেতে চাইলে বাধা দেয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একদল নেতা-কর্মী। এরপরই পুলিশের উপস্থিতিতে তারা হামলা চালায়। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, হামলাকারী বাসও ভাংচুর করে। এসময়ও অনেকে আহত হয়। পুলিশ এসময় নীরব ভূমিকায় ছিল। হামলায় ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন বলে লংমার্চে থাকা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন জানিয়েছেন। লংমার্চকারীরা যখন বেগমগঞ্জের উদ্দেশে বাসে উঠতে যায়, তখন আরেক দফা হামলা হয়। আহতদের ফেনী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করা হলে সেসব এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাও করতে দেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে আহতদের চৌমুহনী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর থাকলেও তারা এখন আশঙ্কামুক্ত। হামলায় আহত ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসমানি আশা বলেন, ‘পুলিশের ইশারায় ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা করে। মিছিলের পেছন থেকে ইট, লোহার টুল ছুড়ে মারে। পুলিশ কিছুই করেনি।’ ফেনীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। ফেনীর পর লংমার্চকারীদের দাগনভূঞায় সমাবেশের কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বাম জোটের সমাবেশে হামলা হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। শনিবার দুপুরে পৌরসভার জিরো পয়েন্টে আতার্তুক স্কুল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..