পার্টিকে শক্তিশালী করা ছাড়া বাম ঐক্য রক্ষা ও দৃঢ় করা সম্ভব নয়

মোহাম্মদ শাহ আলম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাজারে এখন চাল, তেল, পেয়াজ, রসুন, আদা, সবজি, আলু, মুরগী, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া। বাজার করতে গিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। মধ্যবিত্ত-গরিব, সাধারণ মানুষের বাজারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া ছাড়া উপায় নাই, তারা ইতিমধ্যে কমিয়েও দিয়েছেন। মুক্তবাজারের উন্মুক্ত নৈরাজ্য চলছে বাজারে, সবকিছু সিন্ডিকেটের দখলে। করোনাকালের আগে দেশে দরিদ্র মানুষ ছিলো বিশ শতাংশের মতো এখন সেটা ৩০-৩৫% এ উন্নীত হয়েছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন, অনেকের আয় কমেছে। এসময় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে প্রচণ্ড চাপে ফেলেছে, মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। করোনা, বন্যা-ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দুর্নীতি মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত ও অসহনীয় করে তুলেছে। নারীর উপর আক্রমণ, নিপীড়ন, নৃশংসতা, হত্যা, ধর্ষণ মহামারীর রূপ নিয়েছে। সমাবেশ, মিছিল ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর সন্ত্রাসী ও পুলিশী হামলা চলছে, প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার ও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে সরকার, দেশ আমলা ও লুটেরা নির্ভর পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, গণতন্ত্র নির্বাসনে। র্নিবাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে, নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও উৎসাহ নেই। দেশে প্রকৃত অর্থে একদলীয় শাসন চলছে। বিশ্বে, বিশেষ করে উপমহাদেশ, দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারীর ধকল ও ধাক্কা এখনো শেষ হয়নি, ইউরোপ ও আমেরিকায় সংক্রমণ আবারো বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার বলছে শীতকালে আমাদের দেশে সংক্রমণ আবারো বৃদ্ধি পেতে পারে। সরকার বলছে সংক্রমণ প্রতিরোধে এইবার তাদের প্রস্তুতি আছে। আমরা জানি, দেশের স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো দুর্বল ও ভঙ্গুর এবং বাজেট স্বল্পতা রয়েছে। গত বাজেটে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার অবকাঠামো গড়ে তোলার কোনো বরাদ্দ সরকার সঠিকভাবে রাখেনি, বেসরকারি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর হাত-পা ছেড়ে দিয়ে বসে আছে, এই হলো সরকারের প্রস্তুতি। করোনা শুরু হওয়ার সময় বিশ্ব পুঁজিবাদের ও আমাদের দেশের মুক্ত বাজারপন্থী সরকারের দৈন্যদশা ও অসহায়ত্ব বিশ্ববাসী ও আমরা দেখেছি। চীনের উহানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভয়ংকর মহামারী জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ঘোষণা প্রদান করে, এই মহামারী ইউরোপ ও আমেরিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেশে ৮ মার্চ ২০২০, প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। করোনা মহামারী এটা প্রমাণ করে, এধরণের মহামারী বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশ একা মোকাবেলা করতে অপারগ। করোনা মানুষের সামাজিক জীবন, অর্থনৈতিক জীবন, দেশ-বিদেশের পারস্পরিক যোগাযোগ স্থবির ও বিচ্ছিন্ন করে দেয়, দুনিয়াব্যাপী মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্ব আজ পুঁজিবাদের উলঙ্গ চিত্র দেখছে। করোনা পুঁজিবাদের চেহারা ও ব্যর্থতা উন্মোচিত করে দিয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে চলছে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা, অর্থ উপার্জনের আরেক উলঙ্গ পথে হাঁটছে বিশ্ব। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মেধাস্বত্ব আইন এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। করোনা মহামারীর ভ্যাকসিন নিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা হবে অমানবিক কিন্তু পুঁজিবাদ ব্যবসা ছাড়া কিছু বুঝে না। পুঁজিবাদী সমাজ যে অমানবিক, পুঁজিবাদ সভ্যতার অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধক তা আজ মানুষের মধ্যে খুবই পরিষ্কার হয়ে ফুটে উঠেছে, মানুষ বিকল্প খুঁজছে। আমাদের দেশে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ার পরও সরকার উদাসীন ছিল, সরকারি দলের মন্ত্রী, মিনিষ্টার ও নেতৃবৃন্দ করোনা রোগ নিয়ে উপহাস ও বাগাড়ম্বর করতে থাকে। সরকার ও সরকারি দল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকে। করোনা মহামারী ঠেকানোর জন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা নিতে বিলম্ব ও ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। ২৬ মার্চ সরকার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করলেও এপ্রিলের ৪ তারিখ গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়, এর ফলে দেশে করোনা মহামারী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে সরকার এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, এই প্রণোদনা প্যাকেজের চরিত্র, বৈশিষ্ট্য সাধারণ মানুষের স্বার্থের পক্ষে ছিলো না। এখানে সরকারের মুক্তবাজার নীতি ও শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সরকার কর্তৃক প্রণোদনা ৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বণ্টন করতে মালিকরা দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি, অনিয়মের আশ্রয় নেয় ও শ্রমিকদের বঞ্চিত করে। চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে দুইবার শ্রমিকদের কর্মস্থলে এনে অমানবিক নির্যাতন করে। সরকার ঘোষিত ৫০ লক্ষ মানুষকে আড়াই হাজার টাকার অনুদান এখনো বহু মানুষ পায়নি। করোনা মহামারীতে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, খাদ্য বণ্টন, খাদ্য নিরাপত্তা কত নাজুক তা নগ্নভাবে প্রকাশ পায়। সরকারের সকল অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে চরম দুর্নীতি যে স্থায়ী রুপ নিয়েছে তা এইসময়ে ব্যাপকভাবে উন্মোচিত হয়। জেলায় জেলায় ও তৃণমূলে স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অপ্রতুলতা ভঙ্গুরতা, অব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা এবং জবাবদিহিহীনতা জনগণ দেখতে পায়। দেশের স্বাস্থ্য সেবার দুরাবস্থা, করোনা সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতি, করোনা পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির ভয়াবহতা প্রকাশ পায়। আর এইসব কিছু দুর্বৃত্তায়িত ধারার রাজনীতি আর ক্ষমতাসীনদের সহায়তায় সংঘটিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমজীবি ও কর্মজীবি মানুষের ছাঁটাই অব্যাহত আছে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মজীবিদের চাকুরিচ্যুতি বেড়েছে, কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, স্বল্প পুঁজির ব্যবসা বন্ধ ও সংকোচন, বেতন কর্তন, স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থানের সমস্যা ইত্যাদির ফলে দেশে কর্মহীন, চাকরিচ্যুতি, শ্রমিক ছাঁটাই, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়লেও এই সময় কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া, বড়বড় খেলাপীদের ঋণ মওকুফ, চলমান লুটপাটের ধারায় মুক্তবাজারের অর্থ ব্যবস্থার নগ্ন চিত্রটি আরেকবার সামনে এসেছে। অধিকাংশ মানুষের দূরাবস্থা বৃদ্ধি পেলেও বড়বড় প্রকল্প বন্ধ হয়নি, বরং পাটকল বন্ধসহ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাতের অবশিষ্টাংশই বিলীন করে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত সরকার। এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যার আঘাত মানুষের কষ্ট, দুর্ভোগ, ভোগান্তি আরো বৃদ্ধি করেছে। খাদ্যের গণবণ্টন ব্যবস্থার কোনো অবকাঠামো না থাকার কারণে খাদ্য বিতরণে অনিয়ম, নৈরাজ্য, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। সরকার করোনা মোকাবেলায় পরামর্শ কমিটি গঠন করলেও তাদের পরামর্শ আমলে নেননি এবং এড়িয়ে যান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও ডঐঙ র পরামর্শ ও নির্দেশনা আমলে নেননি ও বাস্তবায়ন করেনি, সরকার সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে আমলাদের উপর নির্ভর করে। সর্বস্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি, ডাক্তার ও নন-গভর্নমেন্টাল সংগঠন নিয়ে জাতীয় কমিটি করার আহ্বান সরকার প্রত্যাখান করে, এপ্রিলের শেষের দিক থেকে সরকার ঐঅজউ ওগগটঘওঞণ অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে, তার সমস্ত নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে, ফলে প্রথমদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে কড়াকড়ি ছিল তাও শিথিল হয়ে পড়ে। সরকার, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বলে মানুষের উপর দোষ চাপানোর কৌশল নেয়, এই কৌশলী প্রচার এখনো অব্যাহত আছে, যদিও সরকার এখন মাস্ক পরতে, হাত ধুতে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রচার জোরেশোরে করছেন। সরকার প্রথমদিকে ঢিল দেওয়ার কারণে মানুষকে এই অভ্যাসে ফিরিয়ে আনতে পারবেন বলে মনে হয় না। আমরা দেখলাম, সরকার একতরফা প্রশাসনিক নির্দেশে পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে ফলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। অথচ ১২শত কোটি টাকা হলে পাটকল আধুনিকায়ন করে লাভজনক করা যায়। সরকার সেই পথে হাঁটেনি, ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বিদায় করার পথ নিয়েছে। সরকার পাটকল রক্ষায় আন্দোলনরত শ্রমিক, কর্মচারী ও রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলা-মামলা ও গ্রেফতার পরিচালনা করছে। সরকার শ্রমিক ও দেশের স্বার্থ না দেখে লুটেরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। আগেই উল্লেখ করেছি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে, সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে, দৃর্বৃত্তদের দখলে চলে গিয়েছে সমাজ ও রাজনীতি। খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক ব্যবসা রমরমা ও নিয়ন্ত্রণহীন। প্রশাসনের একটি অংশ এর সাথে জড়িত। সম্প্রতি কক্সবাজারে মেজর সিনহা রাশেদ হত্যাকাণ্ড দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশের মধ্যে অনেক কর্মকর্তা আইনকে নিজের হাতে তুলে নিয়েছে সিনহা হত্যাকাণ্ড তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ। উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উওপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ। চীন ও ভারতের মধ্যে যে যুদ্ধ উন্মাদনা চলছে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর ব্যাপক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে আমাদের দেশের উপর। চীন আমাদের পণ্যের উপর শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা প্রদান করেছে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে বলে নানা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সমাধান এখনো হয়নি। এই সমস্যা আরো জটিল রুপ ধারণ করেছে। অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে আরকান। রাখাইন জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত আরাকান আর্মির আক্রমণে পর্যদূস্ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, মিয়ানমার আমাদের সীমান্তে সেনা মোতায়েন করছে এবং মহড়া দিচ্ছে। রাখাইন ও বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি উওপ্ত ও নাজুক, এর মধ্যে ভূ-রাজনীতির নানা খেলাও বিদ্যমান। এটাই হলো বর্তমানে আমাদের দেশের সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক অবস্থা। আমরা দেখতে পাচ্ছি, করোনা পৃথিবী ও মানব সমাজকে ঐক্য, সংহতি ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছে। মানব সভ্যতা ও মানব প্রজাতিকে বাঁচতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। পুঁজিবাদ ঐক্য নয় সংঘাত বৃদ্ধি করছে। পুঁজিবাদ নয় সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদই মানব সমাজের ভবিষ্যৎ, বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে তা সামনে নিয়ে এসেছে। তাই আজ পৃথিবীর কমিউনিস্ট-বাম ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য, বর্ধিত ভূমিকা পালন পরিস্থিতি দাবি করছে। বর্তমান পরিস্থিতি নতুন কর্তব্য পালনের তাগিদ দিচ্ছে, আমাদের দেশে শাসক শ্রেণির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক নীতির কারণে করোনাকালে সমাজের সর্ব পর্যায়ে দ্বন্দ্ব সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। প্রকৃত রণনীতি ও রণকৌশলের মাধ্যমে এই contradiction গুলোকে পার্টি সংগঠন, গণসংগঠন ও বহুমুখী ধারায় পার্টি হ্যান্ডেল করতে পারলে বিকল্প শক্তি সমাবেশ ও পার্টির শক্তি ভীত বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই বাস্তবতা ও সম্ভাবনা বর্তমানে দেশে বিদ্যমান। দেশে চলছে বর্তমানে কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসন, সরকারের ফ্যাসিস্ট প্রবণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে চলমান দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে গড়ে তুলতে বিকল্প শক্তি সমাবেশ আরো জরুরি হয়ে পড়েছে। আর বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হলে সংগ্রামের ধারায় পার্টি ও গণসংগঠনকে গুনে-মানে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নাই। পার্টি ও তার গণসংগঠনগুলোর social roots and class roots শক্তিশালী করা ছাড়া, বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য দৃঢ় করা ও বিকল্প গড়ে তোলা, রক্ষা করা সম্ভব নয় এবং সমাজ ও রাজনীতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করাও সম্ভব হবে বলে মনে হয় না, তাই এই ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করা সময়ের দাবি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..