৫০% সেমিস্টার ফি মওকুফে রাষ্ট্রীয় অনুদান চায় ছাত্র ইউনিয়ন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০% সেমিস্টার ফি মওকুফের জন্য রাষ্ট্রীয় অনুদান বরাদ্দের দাবি জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। গত ২২ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তামজীদ হায়দার এবং সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রি শেখর নন্দী এই করোনাকালীন মহামারীর কথা বিবেচনা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৫০% সেমিস্টার ফি মওকুফ এ রাষ্ট্রীয় অনুদান দেওয়ার দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন যে, বৈশিক মহামারি কারণে সারা পৃথিবীর ন্যায় বাংলাদেশেও লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ চাকুরিহারা হয়েছে ফলে অনেককের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হয়েছে যার ফলে অনেক পরিবার এর পক্ষেই এই মুহূর্তে পরিবার এর ব্যয়ভার বহন করাই সম্ভব হচ্ছে না সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালালো এক ধরনের বিলাসিতা এই মুহূর্তে তাদের কাছে। আর এই করোনা মহামারিতে অনেক মুনাফাখোর প্রতিষ্ঠান অমানবিক এর মত শ্রমিক কর্মচারী ছাঁটাই করছে এবং মাসের পর মাস বেতন আটকে রাখছে। বেতন পাচ্ছে না বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর শিক্ষক কর্মচারীরাও। কিন্তু সরকার তাদের কথা চিন্তা না করে ওই মুনাফাখোর ব্যাবসায়ীদের কেই বারবার সুযোগ করে দিচ্ছে শোষণ করার। ব্যাবস্থা নিচ্ছে না সেসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। আমরা বলতে চাই এই যে চাকুরিচ্যুতি এবং বেতন আটকে যাওয়া অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানেরাও এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে। আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থী নিজের পড়ালেখার খরচ নিজে বহন করে টিউশনি বা পার্টটাইম কাজ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেসকল শিক্ষার্থীরাও তাদের টিউশন ফি বহন করতে পারছে না এই সময়। আবার এই সকল অর্থনৈতিক সংকট যাদের মধ্যে বিদ্যমান অনলাইন ক্লাস যেন তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা এ পরিণত হয়েছে। কারণ অনেকেরই স্মার্ট ডিভাইস নেই বা ইন্টারনেট এর যে খরচ বহন করতে হচ্ছে তা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এই সকল শিক্ষার্থীদের উপর। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এ কোন কার্যকরী সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় কেউ নিচ্ছে না। উল্টো টিউশন ফি আদায়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের ফাদ পেতে রাখা হচ্ছে শিক্ষার্থী দের জন্য। তাই দেখা যাচ্ছে প্রায় অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এ টিউশন ফি বহন করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী ড্রপ দিচ্ছে আবার অনেকে ঝরে পড়ছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানান অজুহাতে শিক্ষক কর্মচারীদের ও বেতন আটকে রাখছে এবং ছাঁটাই করছে। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সকল বিশ্ববিদ্যালয় এর আপাদকালীন তহবিল থাকার কথা যা দিয়ে এই সময়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কোনোভাবেই মানবিক আচরণ করছে না, উল্টো মুনাফা আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষার্দের কাছে জোরপূর্বক টিউশন ফি আদায় করছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের বলপ্রয়োগ এ ইউজিসির পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছে না কোন বিশ্ববিদ্যালয়। তাই আমরা বলতে চাই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এভাবে নষ্ট হতে পারে না অর্থনৈতিক সংকট এর কারণে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষার্থীর এই সময়ে শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই রাষ্ট্রের।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..