কর্মহীন হয়ে পড়া বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবি যুব ইউনিয়নের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস সঙ্কটে দেশে প্রতি ৬ জন যুবকের ১ জন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ মহামারীতে যুবকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিনভাবে- একদিকে তারা কাজ হারাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য চাকরিতে প্রবেশ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা যখন আমাদের এই ব্যাপক সংখ্যক জনশক্তিকে কাজ দিতে পারবো না তখন এই শক্তি পরিণত হবে আপদে। সরকারি শূন্যপদে সরকারি নিয়োগদান ও কর্মহীন হয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবিতে রাজধানীর বিভিন থানা ও অঞ্চলে একযোগে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ঢাকা মহানগর কমিটির দূরবন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় সূত্রাপুর-যাত্রাবাড়ি থানা যৌথভাবে সূত্রাপুরের লোহারপুলে, বাড্ডা থানা হাতিরঝিলে, উত্তরায় আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে, রমনা থানা বড় মগবাজার মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল, ঢাকা মহানগরের সভাপতি হাবীব ইমন, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, চৌধুরী জোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক জীবন সাহা সদস্য গোলাম রাব্বী খান প্রমুখ। বাড্ডা থানার দূরবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কর্মসংস্থানকে সংবিধানের মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ বলেন, জাতিকে মেধাশূন্য করার সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত দেশের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে রুখে দিতে হবে। মেধার ভিত্তিতে চাকরি, চাকরি প্রাপ্তির বয়সসীমা বৃদ্ধিকরণ ও নিয়োগ পরীক্ষা জেলা সদরে গ্রহণ করতে হবে। সূত্রাপুরের লোহারপুলের দূরবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, যে যতো বেশি শিক্ষিত, তার বেকার হওয়ার শঙ্কাও সবচেয়ে বেশি। যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি, কিন্তু খুব যুক্তিসঙ্গত কারণেই এক প্রবৃদ্ধি সুস্থ মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তো নয়ই, অতি সাধারণ কাজের সুযোগও চাহিদা অনুযায়ী সরকার বৃদ্ধি করতে পারছে না। বিশ্বের নামকরা অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর্মসংস্থানের অভাবকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখছেন। আমাদের প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে কর্মসংস্থানের বৈপরীত্য রয়েছে। এ সকল সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বেকারত্ব, অভাব, আর দারিদ্র্য যুবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করবে। যুবকরা কাজ করতে চায়, আয় করতে চায়, জীবনে দাঁড়াতে চায়। কাজ না পাওয়া থেকে যে হতাশা তৈরি হবে তা এই যুবকদের সৃজনশীলতা, কর্মউদ্যোগ, ভালো কিছু করার ইচ্ছা, সমাজের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা, প্রতিভা, সততা সব নষ্ট করে দেবে। হতাশা থেকেই যুব শক্তি হয়ে যেতে পারে পথচ্যুত ও মাদকাসক্ত। যার ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে করোনা অভিঘাতে কর্মহীন হয়ে পড়া যুবকদের কাজের সুযোগ, শ্রমবাজার, বেকারত্ব, অভিবাসী শ্রমিক, নারী শ্রমিক, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পেশাগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবতে হবে সরকারকে। যুবকদের ঋণ মওকুফ করতে হবে, সুদবিহীন ঋণ দিতে হবে এবং বেশি বেশি কাজে নিয়োগ দিতে হবে। পরবর্তীতে সরকারি শূন্যপদে সরকারি নিয়োগদান ও কর্মহীন হয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সমাবেশ থেকে সকল যুব সমাজকে এ আন্দোলনে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..