দেশে দ্বিতীয় দফা করোনা সংক্রমণের আশংকা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা স্বাস্থ্য ডেস্ক : বাংলাদেশে একদিকে করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের আশংকা, অন্যদিকে ইতিমধ্যে মৃত্যু বেড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। সংক্রমণের শুরু থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর অবধি সরকারি হিসাবে সারা দেশ মোট সংক্রমণ হয়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৭ জন। আশংকা করা হচ্ছে, আসন্ন শীতে করোনার দাপট আরও বেড়ে যেতে পারে। এই আশংকা শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের না, এমন আশংকা করছে সরকারও। বিশেষজ্ঞরা আগাগোড়াই বলছেন, করোনা এমন একটি ভাইরাস যা চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশ করে শ্বাসযন্ত্রকে থামিয়ে দেয়। এটা মূলত শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। শীতেই মানুষের অসুখ-বিসুখ বেশি হয়। এরমধ্যে শ্বাসজনিত রোগই হয় অধিকমাত্রায়। এই অবস্থায় শীতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চীনে থেকে করোনাভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার পরে প্রায় সব দেশেই করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ঘটেছে। সর্বশেষ ফ্রান্সে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ। ইউরোপের দেশটিতে প্রাণঘাতী ভাইরাস থাবা বসানোর পরে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসের দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যেতে পারে, তার জন্য ফ্রান্সে ফের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের দেশে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেড়ে গেছে। ঘরে ঘরে জ্বর, স্বর্দি কাশি রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে চলেছে। লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই ভয়ে করোনা পরিক্ষা করাচ্ছে না, আবার অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে মৃত্যু কম এই ভেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছুই স্বাভাবিক করে দেয়া হয়েছিল। রাজধানী ঢাকা অনেক আগেই তার চিরচেনা রূপে ফিরেছে। প্রচণ্ড যানজটে জীবনযাত্রা অনেকটাই ব্যহত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে রয়েছে একধরনের উদাসিনতা। বিশ্বব্যাপী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার খবরে বাংলাদেশ কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। এই ঢেউ যাতে ছোবল দিতে না পারে সেজন্য সবকার একটি রুপরেখা তৈরি করা হয়েছে। যেসব হাসপাতাল রোগী নেই মনে করে বন্ধ করা হয়েছিল সেগুলো আবার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার উদ্যোগ চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আইন প্রণয়নের কথাও ভাবছেন কর্মকর্তারা। কিন্তু প্রথমদফা সংক্রমণে সরকারের উদ্যোগ যথার্থ প্রমাণ হয়নি। সেই সাথে দেশের মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। সরকারি প্রণোদনা মানুষে হাতে না পৌঁছে হয়েছে লুটপাট। হাজার হাজার কোটি টাকা গার্মেন্ট খাতে প্রণোদনা দিলেও তা শ্রমিকরা না পাওয়ায় পুরো সময়জুড়ে চলেছে শ্রমিক আন্দোলন। শুধু তাই নয় লকডাউনের সময় মালিকের চাপে গার্মেন্ট খোলা রেখেছে সরকার। জীবিকার তাগিদে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সরকার যথার্থ লজেস্টিক সার্পোটও দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের দেশে যে সময় দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের আশংকা রয়েছে সেময়ের আবহাওয়ার কারণে তা আরো ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এবার সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারলে করোনা দেশে আরো ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..