বিপ্লবী পার্টিতে তরুণ ও সার্বক্ষণিক কর্মীর প্রয়োজনীয়তা

মো. কিবরিয়া :

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একবিংশ শতাব্দিতে এসে অনেকেই নতুন করে প্রশ্ন তোলেন, সমাজ পরিবর্তনের বা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ঘোষণা করা কোনো বিপ্লবী পার্টির চরিত্র, তার সংগঠন বা ক্যাডার প্রক্রিয়া কেমন হবে? গৎবাঁধা বুলি বা ডগমা বা কোটেশান দিয়ে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনেকেরই আপত্তি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা এবং স্থানিক অবজেক্টিভ সিচুয়েশনের বিশ্লেষণ ব্যতীত এর উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে না। একথা তো ঠিক, আমাদের দেশে সমাজতন্ত্র বিনির্মাণের প্রক্রিয়া এবং তাতে নেতৃত্বদানকারী পার্টি গঠনের প্রক্রিয়া সোভিয়েত আমলের রাশিয়া কিংবা বর্তমান চীন অথবা কিউবা, কারো মতই হুবহু কার্বনকপি হবে, এমন নাও হতে পারে। কিন্তু সাম্যভিত্তিক সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে এগুতে হলে পূর্বসূরিদের পার্টি গঠনের অভিজ্ঞতাকেও ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত বিবেচনাসহ আমলে নিতে হয়, আবার সেটাকে সৃজনশীল উপায়ে প্রয়োজনে ছাড়িয়েও অগ্রসর হতে হয়। এটা তো ঠিক সময় বদলেছে, জীবনধারণ ও জীবিকা অর্জনকে আরো কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে এ পণ্যভিত্তিক সমাজ। মানুষের সামাজিক জীবন উৎপাদনের প্রক্রিয়া জটিল ও বিকশিত হয়েছে, চাহিদা বেড়েছে, শুধুমাত্র ভাত-কাপড়ের সংস্থানই জীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। এই সময়ে এসে এ ধরনের পার্টি কারা করবে? তরুণদের পার্টিতে কী করে সম্পৃক্ত করতে হবে? এ সময়েও আগের মত সার্বক্ষণিক পার্টি কর্মীর বাস্তবতা আছে কি-না, তরুণরা নিজের জীবন-জীবিকা ছেড়ে সার্বক্ষণিকভাবে সমাজ পরিবর্তনের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার দরকার আছে কি-না, এ নিয়েও অনেক প্রশ্ন আসে। অনেকে বলেন, ‘জীবনকে দমিয়ে রেখে (অর্থাৎ প্রচলিত ভোগবাদী জীবনে গা না ভাসিয়ে) পরিবর্তন আর সম্ভব নয়।’ ‘জীবনকে উৎসর্গ করে আর অর্জন করার মত কিছু নেই।’ ‘লেনিনীয় পার্টি কাঠামো এখন অচল।’ ‘জীবন-জীবিকার সাথে আপস না করে যতটুকু সম্ভব কন্ট্রিবিউট করাই সর্বোত্তম, এর বেশি দরকার নাই।’ এ বাস্তবতায় শুধুমাত্র একটা মতাদর্শিক অবস্থান ঘোষণা করে, তর্ক আর প্রচার-প্রচারণা করে সে মতবাদকে বিজয়ী করতে পারলেই যেন জনগণ সেটা বিচার বিবেচনা করে এগিয়ে আসবে আর পরিবর্তন হয়ে যাবে! আসলেই কি তাই? একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, দুনিয়াব্যাপী এ পণ্যভিত্তিক সমাজ মানুষকে যতই এলিয়েন, আত্মমগ্ন বা স্বার্থপর করে তোলার প্রক্রিয়ায় শামিল রাখুক না কেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকলে মানুষ এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবাদ করে, রাস্তায় নামে। বর্তমান বাস্তবতাও কিন্তু মানুষের লড়াই ও টিকে থাকার সংগ্রামের গুরুত্বকে কমিয়ে দেয়নি, ন্যায় ও ইনসাফের সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে বরং আরো তীব্র করেছে। এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার জন্ম যে বাস্তবতায়, সে বাস্তব অবস্থাই কিন্তু পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংগ্রাম করতে সংগঠিত করতে এমনকি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান দুনিয়ায় গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলোকে মিডিয়া বরাবরই বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করে। এর সাথে বর্তমানের সিস্টেমকে টিকিয়ে রাখতে চাওয়া বুদ্ধিজীবীরাও মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোকে বিচ্ছিন্ন ও স্বতঃস্ফূর্ত বলে উপস্থাপন করেন, এবং সেইসাথে রাজনৈতিক মতাদর্শের উপস্থিতিকে অগ্রাহ্য করতে চান। রাজনীতি মানেই খারাপ, রাজনীতিবিদরা খারাপ এই আলোচনা তো আসলে সিস্টেম টিকিয়ে রাখারই প্রক্রিয়া। অপরদিকে প্রকৃত সত্য মনে হয় গ্রামসির এই কথায় চমৎকারভাবে উঠে আসে, “ইতিহাসে ‘বিশুদ্ধ’ স্বতঃস্ফূর্ততা বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, ‘বিশুদ্ধ’ যান্ত্রিকতা বলতেও তেমনি কিছু নেই। ‘সবচাইতে স্বতঃস্ফূর্ত’ আন্দোলন হলো তাই যাতে ‘সচেতন নেতৃত্বের’ উপাদানগুলোকে পরীক্ষা করা হয়নি বা সে নেতৃত্ব কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ রেখে যায়নি।” অর্থাৎ সকল আন্দোলনেরই একটা সচেতন নেতৃত্ব থাকে, আর সেই নেতৃত্ব কতটুকু অগ্রসর ও লক্ষ্যমুখী তার ওপর আন্দোলনের চরিত্র ও ভবিষ্যত নির্ভর করে। জনগণের আন্দোলনকে একটা অর্থবহ পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বামদের নীতি-আদর্শভিত্তিক নিজস্ব স্বকীয় অবস্থান জনগণের সামনে স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো বেশি। এর জন্য শুধুমাত্র গণআন্দোলনে শরিক হয়ে তার মধ্যে নিজেদের জানান দেয়া ও তার নেতৃত্ব দখল করা নয়, সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গীকার ঘোষণা করা পার্টিকে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে নেতৃত্বটাকে অর্জন করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলন গড়েও তুলতে হয়। জনগণের ওপর নিজের মত চাপিয়ে দিয়ে নয়, গণআন্দোলনের ভেতরে থেকে ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে, জনগণের কাছ থেকে শিখে ও তাদের শিক্ষা দিয়ে, অর্থবহ পরিবর্তন বা ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে হয়, এছাড়া শর্টকাটে জনগণের আস্থা অর্জন অসম্ভব। এই কাজটা তো আর আপনা আপনি বা রাতারাতি হয়ে ওঠে না, এটা করার জন্য সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা পার্টি ও তার বহুসংখ্যক নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর প্রয়োজন, যারা সমাজের বৃহত্তর পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে বিস্মৃত না হয়ে বর্তমানের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সংযুক্ত করবে ও মূল লক্ষ্যাভিমুখী করবে। আমাদের দেশে গড়ে ওঠা বামপন্থি আন্দোলন ও পার্টিগুলোর মধ্যে দুই ধরনের প্রবণতা আমরা দেখেছি, যা উপযুক্ত পার্টি তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এক হলো ডগম্যাটিজম, যা কোনো ধরনের পরিবর্তনকে ভয় পায় এবং রক্ষণশীল চরিত্র ধারণ করে থাকে। আরেকটা হলো সুবিধাবাদী প্রবণতা, যা পরিবর্তনের ধোঁয়া তুলে মূল লক্ষ্যটার কথাই ভুলে যায়, চলতি হাওয়ার প্রবণতায় নিজেকে ভাসিয়ে দেয়। তবে এ অঞ্চলে বাম আন্দোলনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় অনেকে বামপন্থিদের মূল সংকট হিসেবে বলেন যে, গণআন্দোলনের বৃহত্তর স্বার্থের প্রয়োজনে কিংবা কখনো কখনো মতাদর্শিক বিভ্রমের শিকার হয়ে বামপন্থিরা নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। বহু আন্দোলনের সূচনা করে, এমনকি তার নেতৃত্বে থেকেও রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছে, ফসল গোলায় ভরেছে অন্য কেউ। মতাদর্শিক বিচ্যুতি এর একটা কারণ তো অবশ্যই, তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, পার্টি সংগঠনের চরিত্র, কিংবা তার অবজেক্টিভ স্ট্রেন্থও পার্টির মতাদর্শের বিকাশের ওপর প্রভাব ফেলে। ঢিলেঢালা ফ্রি-স্টাইল পার্টিতে সুবিধাবাদ জন্ম নেয়, অতিকেন্দ্রিকতা কিংবা যান্ত্রিকতা রক্ষণশীল ডগমাটিজম ও গণবিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। আরেকটা বাস্তবতা হলো, রাজনীতি বিষয়টাই আসলে একটা সার্বক্ষণিক বিষয়। এমনকি বুর্জোয়া দলের যারা নেতৃত্ব পর্যায়ে থাকে, তাদেরও সার্বক্ষণিকই কাজ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বুর্জোয়া দলের এসব কর্মীকে ব্যবসার লাইসেন্স দেয়া হয়, ঠিকাদারি দেয়া হয় কিংবা বেতনভূক কর্মচারীর মত মাসে মাসে ‘দল চালানোর খরচ’ দেয়া হয়। দল চালানোর পাশাপাশি এসবক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কামাই হয়ে যায় এদের। যেভাবেই হোক, যারা ঐ রাজনীতি করেন বা সেই রাজনীতি করে নেতা হন, তাদের জীবন জীবিকার জন্য খুব বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না, অধিকাংশ সময়েই তারা তাদের মত ‘রাজনীতি’ বা ‘দল’ করেন। বামপন্থি দলগুলোর পক্ষে তো কর্মীদের জন্য এরকম ব্যবস্থা করে দেয়া সম্ভব নয়, নেতাদের জন্যও মোটামুটি আরামপ্রদ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না বামপন্থী পার্টিগুলো। পার্টির সামান্য ভাতা কিংবা পারিবারিক সাপোর্টে তাই সার্বক্ষণিক কর্মীর টিকে থাকতে হয়। প্রতিনিয়ত নিজেদের টিকে থাকার যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। অন্যান্য দল যেভাবে সার্বক্ষণিক কর্মী ‘কিনতে’ পারে, বাম দলগুলো সেভাবে পারে না। রাজনীতি এবং সংগঠনকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হলে, বুর্জোয়া দলগুলোর পেইড বা সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মীবাহিনীর বিপরীতে, প্রচারযন্ত্র ও অন্যান্য মেকানিজমের বিপরীতে বাম দলগুলো তাহলে কী করবে? সম্ভাবনাময় তরুণ ক্যাডারদের কি সার্বক্ষণিকভাবে সংগঠন ও রাজনীতি করতে উৎসাহিত না করলে তারা পেরে উঠবে কীভাবে? এটা তো ঠিক যে, বাম দলগুলোতো আর বৈষয়িক প্রলোভন দেখিয়ে সার্বক্ষণিক কর্মী তৈরি করতে পারবে না, আবার তথাকথিত ‘ব্রেনওয়াশ’ করেও বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। আন্দোলন সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় যারা সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান, পার্টিকে আস্থায় নিতে পারলে তারাই সার্বক্ষণিক রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। পার্টির কাজ সেই আস্থা, নির্ভরতা ও স্বপ্নের জায়গাটা অটুট রাখা। বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই যে দ্রুত হতাশ হয়ে যান না তা নয়, আবার অনেকেই আন্তরিকভাবে শত কষ্টেও এই লড়াইয়ে শামিল থাকেন। এখনো যে অনেক তরুণ স্বপ্ন নিয়ে সে লড়াইয়ে বহু ত্যাগ স্বীকার করে শামিল হচ্ছে ও টিকে থাকছে, এটা তো অনেকের কাছেই আশ্চর্য লাগে। সমাজ পরিবর্তনের লড়াইকে এগিয়ে নিতে হলে, এ সময়ে এসেও সমাজ পরিবর্তনের পার্টিতে সার্বক্ষণিক কর্মীর প্রয়োজনীয়তা কমেনি, বরং প্রতিপক্ষ আরো শক্তিশালী হওয়ায় প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় তরুণ সার্বক্ষণিক কর্মী যেকোন বামপন্থি দলের জন্যই সম্পদ। বৈষয়িক আরাম-আয়েশ বা স্বচ্ছলতাটুকু না দিতে পারলেও, তাদের ঠিকভাবে গড়ে তোলা, মতাদর্শিকভাবে তাদের প্রস্তুত করে তোলা, তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনযাপন, সংকট-সম্ভাবনার দিকে খেয়াল রাখা, নেতৃত্বের জন্য তাদের উপযোগী করে গড়ে তোলা পার্টির দায়িত্ব। আবার মনে রাখতে হবে আজকের তরুণ পার্টিকর্মীরা ষাটের দশক থেকে উঠে আসেনি, বর্তমান সময়ের অনেক অগ্রসর চিন্তা (বুর্জোয়া সমাজও স্থবির নয়, এখানেও নিত্যনতুন অনেক চিন্তা গড়ে ওঠে, যা সাম্যভিত্তিক সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়, বরং সহায়ক) তারা ধারণ করে, আবার এই সমাজ থেকে পাওয়া কিছু নেতিবাচক প্রবণতাও তাদের মধ্যে থাকা বিচিত্র নয়। পার্টি এসময় এসে পার্টি কর্মীদের ব্যক্তি জীবনকে হয়তো যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে না, কিন্তু পার্টিতে চর্চা হওয়া মতাদর্শ ও নৈতিকতা আপনা আপনিই যাতে ব্যক্তির জীবনে প্রভাব ফেলে, তাকে উন্নততর জীবনবোধে সমৃদ্ধ করে সেটাও নিশ্চিত করা দরকার। পার্টি শৃঙ্খলা জরুরি হলেও, পার্টি শৃঙ্খলার নামে যান্ত্রিক শৃঙ্খল যাতে সৃজনশীল চিন্তা ও নতুন ধ্যানধারণার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে সেদিকেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। যেমন কর্মী তেমন পার্টি, আবার যেমন পার্টি তেমন কর্মী, ডায়ালেক্টিক্যালি দুটো কথাই সত্যকে ধারণ করে। যারা প্রচলিত অর্থে সার্বক্ষণিক নন, কিংবা যাদের নানা সীমাবদ্ধতায় জীবন-জীবিকার সন্ধানটুকু করতে হয় নিজের অথবা পরিবারের জন্য, তারাও যে পার্টিতে কন্ট্রিবিউট করেন না তা নয়। অনেকে সার্বক্ষণিক না হয়েও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, অন্যান্য অনেকভাবে পার্টির জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন যার বুকে থাকে, সাধারণভাবে তার মধ্যেও সার্বক্ষণিকভাবে সে কাজে কন্ট্রিবিউট না করতে পারার বেদনা থাকাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে সার্বক্ষণিকভাবে যারা কাজ করছেন, তাদের প্রতি সমর্থন-সহযোগিতা ও শ্রদ্ধাবোধ স্বাভাবিকভাবেই চলে আসার কথা। সার্বক্ষণিক কর্মীরা যাতে উপযুক্তভাবে বিকশিত হয়ে নেতৃত্ব দিতে পারেন, সমালোচনা- আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আরো যোগ্য ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন, সে ব্যাপারে পার্টিতে সকলের স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই সহায়তা করা প্রয়োজন। প্রতিটি কমিউনিস্টই কিন্তু এক অর্থে জনগণের কর্মী ও নেতা, তা তিনি সার্বক্ষণিক কর্মী হোন বা না হোন, অথবা যেখানেই কাজ করুন না কেন। তবে বাস্তবতা হলো, লড়াই সংগ্রামে আন্দোলনে, নানা ভয়ভীতি ও জুলুম নির্যাতনের মুখে পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে হলে, অন্য কোনো দিকে সময় দেয়ার সুযোগ থাকে না, সে বাস্তবতাও থাকে না। সুতরাং একজন তরুণ সার্বক্ষণিক কর্মীর মধ্যেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব লুকিয়ে থাকে। সেই কর্মীদের উপযুক্ত বিকাশ নিশ্চিত না করতে পারলে পার্টি সংগঠনের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলশ্রুতিতে দেখা দিতে পারে মতাদর্শিক বিচ্যুতি। এ সময়ে একঝাঁক তরুণ নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, সংগঠকের কালেকটিভ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিয়ে সংগ্রামে শামিল হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে, একটা দুর্বল সংগঠনকাঠামো কখনো জনগণের নেতৃত্ব দিতে উপযোগী হয়ে উঠতে পারে না, বরং ক্রমেই তা মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে শর্টকাট খোঁজে ও অধঃপতিত হয়, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলেও এ শিক্ষাটা ‘ব্যাকডেটেড’ নয়। লেখক : সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..