শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নন ট্রাম্প

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নির্বাচনে হেরে গেলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রশ্নে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজিত হলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন কিনা; এ ব্যাপারে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, পরাজিত হলে আগে দেখতে হবে আসলে কী ঘটেছে। সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ডাকযোগে ভোটের ব্যাপারে আবারও সন্দেহের কথা জানিয়ে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। ২৩ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমন বক্তব্য রেখেছেন। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, আমরা দেখবো আসলে কি ঘটে, এটা আপনারা জানেন। তিনি মনে করেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে। এ সময় তিনি আবারো পোস্টাল মাধ্যমে ভোট নেয়ার ওপর সংশয় প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস থেকে মার্কিনিদের নিরাপদ রাখার জন্য অনেক রাজ্যকেই মেইল-ইন ভোটিংয়ের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে ভিন্ন সুর দেখা গেছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককোনেলের ভাষ্যে। মিচ ম্যাককোনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে বিজয়ী হয় সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখ পরবর্তী প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ট্রাম্প ঘনিষ্ট সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও একইভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর সিনেটর মিট রমনি ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান মেনে চলবেন না এমনটি মনে করা অচিন্তনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। ফলে ট্রাম্পের নিজের দলের ভেতরে ক্ষমতা হস্তান্তর ইস্যুতে দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক কর্মদিবসে নির্বাচন হয় বলে অনেক মানুষ সশরীরে ভোট দিতে পারেন না কাজের সূত্রে দূরে থাকার কারণেও কারও কারও ভোট দিতে সমস্যা হয়। এমন সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সেদেশে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর বিধান রয়েছে। এ বছর করোনা সংকটের কারণে অসংখ্য ভোটার সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে ডাকযোগে বা মেল ইন ভোটের দাবি জানানো হলেও ট্রাম্প শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করছেন। এমনকি ভোট-জালিয়াতি হতে পারে বলে ডেমোক্র্যাটদের দিকে আঙুলও তুলেছেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞ এবং ভোট কর্মকর্তারা ট্রাম্পের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলছেন এই প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি কিংবা ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই প্রক্রিয়া নিয়মিত ব্যবহার করেছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..