১১ লাখ পাতার চার্জশিট! উমর খালিদের মুক্তি দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) মামলা করেছে পুলিশ। কিন্তু তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নোয়াম চমস্কি থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা দু’শোর বেশি শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা সহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা। নাগরিক সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবিতে উমর খালিদ সহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের দিল্লির দাঙ্গায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করে রাখার তীব্র নিন্দার পাশাপাশি তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েও যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশ বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। নোয়াম চমস্কি ছাড়াও ইরফান হাবিব, রোমিলা থাপার, রামচন্দ্র গুহ, মীরা নায়ার, অমিতাভ ঘোষ, সলমন রুশদি, অরুন্ধতী রায়, রত্না পাঠক শাহ, পি সাইনাথ, আনন্দ পটবর্ধন, মেধা পাটকার প্রমুখ এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। বিশিষ্টজনদের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘সিএএ ও এনআরসির মতো আইন যেখানে সবাইকে সমান নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়া হয় না, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য উমর খালিদ ও অন্যান্য যাদের মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত করে জেলে পাঠানো হয়েছে ভারত সরকারের কাছে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা। একই সঙ্গে দিল্লির সংঘর্ষ কেন হয়েছিল, বা তাতে কাদের হাত ছিল সেই ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি দিল্লি পুলিশের কাছে, যারা দেশের সংবিধান মেনে চলার শপথ নিয়েছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে সংঘর্ষে যুক্ত ইন্ধন যোগানোর অভিযোগে ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হওয়া সাহসী ও তরুণ শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতা উমর খালিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সবার সমান নাগরিকত্বের দাবি তুলে উমর খালিদ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দেশের প্রতি তার কর্তব্য ঠিক কী। এই পদক্ষেপ থেকে তার শিক্ষারও পরিচয় পাওয়া যায়।” উমর খালিদের গ্রেফতারের ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, সহিংসতার অভিযোগে মুসলিমদের অন্যায়ভাবে টার্গেট করছে পুলিশ। উমর খালিদ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির শিকার হয়েছেন। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হয় উমর খালিদের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর উমর খালিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। সকাল থেকে টানা ১১ ঘণ্টা জেরার পর, গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। উমর খালিদের বিরুদ্ধে জমা করা চার্জশিটে ১১ লাখ পাতার নথি জমা করে পুলিশ। দিল্লির দাঙ্গায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পরের দিন আদালতে তাঁকে তোলা হলে ১০ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারপতি। ২৪ সেপ্টেম্বর তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এদিন তাঁকে আদালতে তোলা হলে ভিডিও কনাফেরেন্সে মারফত শুনানির শেষে বিচারপতি আরও ১০ দিন হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। উমরকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে পুলিশ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..