চলতি বছর ভারতের অর্থনীতি নামতে পারে ৫.৯ শতাংশে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : করোনা আবহে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে (জিডিপি) ৫.৯ শতাংশ সঙ্কোচন হতে পারে। জাতিসংঘের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সামনের বছর জাতীয় ক্ষেত্রে অর্থনীতির কিছুটা স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও আয় বৃদ্ধির আশা নেই বলেই অনুমান। ঘটনাচক্রে আগে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় ভারতে গত চল্লিশ বছরে উৎপাদনের হার সব চেয়ে কমে যাওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (ইউএনসিটিএডি)’র বাণিজ্য ও উন্নয়ন, ২০২০ প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়। এতে মহামারীর জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে সমানে রক্তক্ষরণ ঘটে চলার বিষয়ে জানানো হয়েছে। তাই মনে করা হচ্ছে, চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৪.৩ শতাংশ সঙ্কোচন ঘটতে পারে। এর ধাক্কায় বিশ্বে উৎপাদন কমবে আনুমানিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘সংক্ষেপে ব্রাজিল, ভারত এবং মেক্সিকোর মতো অর্থনীতির পুরোপুরি ভেঙে পড়া অবস্থার মধ্য দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে এগুতে হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি বৈদেশিক ক্ষেত্রেও আর্থিক ক্রিয়াকলাপ ব্যাহত। এমন অবস্থার মধ্যে এ বছর বিশ্বে বাণিজ্য এক-পঞ্চমাংশ হ্রাস পেতে পারে। প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ কমতে পারে ৪০ শতাংশ। ইউএনসিটিএডি’র প্রতিবেদনে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে এই কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনীতির সঙ্কোচন হতে পারে ৪.৮ শতাংশ। ২০২১ সালে তা ৩.৯ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হবে। ভারতের জিডিপি সঙ্কোচন হবে ৫.৯ শতাংশ। আগামী বছর তা বাড়তে পারে ৩.৯ শতাংশ। ২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের ফলে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ব্যাহত হওয়ার দরুণ মন্দাজনিত পরিস্থিতিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০২১ সালে ভারতীয় অর্থনীতির কিছুটা শ্রীবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও আয় বাড়বে না বলেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তা থেকে একটি কথা পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কয়লা, প্রতিরক্ষার মতো জাতীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একের পর এক ভিত্তি যতই বিদেশি বিনিয়োগের জন্য খুলে দিক না কেন, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতি আস্থা সমানে কমছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে জিডিপি কমতে পারে ৫.৪ শতাংশ। আবার ২০২১ সালে তা বাড়তে পারে ২.৮ শতাংশ। ২০২০ সালে চীনের জিডিপি বাড়বে ১.৩ শতাংশ। কিন্তু ২০২১ সালে ওই বৃদ্ধির দৌড় ঠেকতে পারে ৮.১ শতাংশে। তা হবে বিশ্বে কোনও দেশে সর্বোচ্চ জাতীয় অর্থনীতির বিকাশের হার। ‘এ বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে অত্যন্ত কঠিন সময়। অনেক দেশই মহামারীর মোকাবিলার জন্য তৈরি ছিল না। জীবনহানি রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা বজায় রাখতে লকডাউনকেই কার্যকর বিবেচনা করা হয়। তা করতে গিয়ে বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি। ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার মতোই দ্রুত গতিতে তা সম্প্রসারিত হয়েছে।’ জানানো হয়েছে ইউএনসিটিএডি’র প্রতিবেদনে। এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে অর্থনীতি হ্রাস পেয়েছে ২০০৮-০৯ সালের মন্দার তুলনায় বেশি। কিছু ক্ষেত্রে তা সর্বকালীন রেকর্ড। আপাতত প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে মনে করা হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির এমন সঙ্কোচন ১৯৩০ সালের মহামন্দাকে পর্যন্ত ছুঁতে পারে। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির চেহারা ফেরা শুরু হলেও তা দুনিয়া জুড়ে সমান হবে না। এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতিতে বিস্তর তারতম্য পরিলক্ষিত হবে। বজায় থাকবে অনিশ্চয়তার দোলাচল। প্রতিবেদনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বেকারি বাড়বে বলে আশঙ্কার কথাও রয়েছে। বাড়বে বহু সংস্থার দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা। সরবরাহ শৃঙ্খলও হবে ঠুনকো। এর জেরে দুর্বল হবে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস, কমবে চাহিদা। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উন্নত দেশগুলির অর্থনীতি প্রসঙ্গে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। কারণ, এমন বেশ কিছু দেশের জিডিপি প্রায় দুই অঙ্ক পর্যন্ত নামতে পারে, যার সরাসরি প্রভাবে চূড়ান্ত দারিদ্র্যের কবলে চলে যেতে পারেন ৯-১২ কোটি মানুষ। বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা নষ্ট হবে ৩ কোটি নাগরিকের। ইউএনসিটিএডি’র সেক্রেটারি জেনারেল এক উন্নত বিশ্ব গড়তে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..