আবারও কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভে উত্তপ্ত আমেরিকা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার মৃত্যুতে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও চার্জ গঠন না করায় আন্দোলনে উত্তাল আমেরিকার কেন্টাকির লুইসভিলা এলাকা। কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার মৃত্যুতে আদালত নিরব থাকার প্রতিক্রিয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান শুরু করে কৃষ্ণাঙ্গরা। ৬ মাস আগে নার্স ব্রেয়না টেইলরকে তার বাসভবনে হত্যার অভিযুক্ত তিনজন পুলিশ সদস্যের বিচার হচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে দু’জনের কাউকেই অভিযুক্ত করেনি আদালত। একজনকে অন্য এক ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরপরই ছড়িয়ে পরে বিক্ষোভ। লুইসভিলের ফোরসন সার্কিট জজ অ্যানি ও’কনেলের কাছে জমা দেয়া রিপোর্টে গ্রান্ড জুরিরা বলেছেন, নার্স টেইলরকে গুলি করার জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তার মধ্যে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ব্রেট হ্যানকিসন (৪৪)কে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৩টি অভিযোগে। এর মধ্যে তিনি টেইলরকে সরাসরি গুলি করেননি। প্রতিবেশী একটি এপার্টমেন্টে গুলি করেছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন সার্জেন্ট জোনাথন ম্যাটিংলি এবং অফিসার মাইলিস কসগ্রোস। প্রকৃতপক্ষে নার্স টেইলরকে হত্যার জন্য তাদের কাউকে দায়ী করা হয়নি। আদালতের এমন সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষোভ ঝরছে রাস্তায়। আদালত সিদ্ধান্ত দেয়ার পর বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন দুই পুলিশকর্মী। এ সময় সন্দেহজনকভাবে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে তিন দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড। লুইসভিলের মেয়র গ্রেগ ফিশার কারফিউ ঘোষণা করে বলেছেন, জন অসন্তোষের কারণে জরুরি অবস্থা দেয়া হয়েছে। কারফিউ দেয়া সত্ত্বেও লোকজন বিভিন্ন স্থানে সমবেত হচ্ছিল। এ অবস্থায় কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার জনতাকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিযেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা জানি সহিংসতার জবাব সহিংসতা হতে পারে না কখনো। দ্রুত বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লুইসভিলের পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘ব্রেওনা টেইলর হত্যা মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছেন, তার দিকে গভীর মনযোগ রাখা হচ্ছে। এ ঘোষণাকে সামনে রেখে মানুষের চলাফেরার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এরইমধ্যে শহরটির কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে অসংখ্য স্থানে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে; কেন্দ্রীয় আদালতভবনও বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ ছুটির সব আবেদন বাতিল করেছে। স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন তারা অনলাইনে ক্লাস নেবে। ২০২০ সালের ১৩ মার্চ রাতে নিজের ফ্ল্যাটে প্রেমিক কেনেথ ওয়াকারের সঙ্গে সিনেমা দেখার সময় দরজায় টোকার শব্দ পান ব্রেওনা। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা ওই ফ্ল্যাটে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়েছিল। পুলিশের দাবি, তাদের কাছে খবর ছিল ব্রেওনার সাবেক প্রেমিক, মাদক ব্যবসায়ী জামারকাস গ্লোভার এই ঠিকানা ব্যবহার করে বিভিন্ন প্যাকেজ আদান-প্রদান করে। গ্লোভারের নাম পুলিশের খাতায় থাকলেও ব্রেওনার কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না। এক বিচারকের দেওয়া ‘নো নক’ পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ দরজা ভেঙে ব্রেওনার ফ্ল্যাটে অভিযানের চেষ্টা করে। এফবিআই-এর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আরেক পুলিশ সদস্য মাইলস কসগ্রোভের গুলিতে টেইলর নিহত হয়েছেন। তবে তীব্র বিক্ষোভ সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ গঠন করা হয়নি। জন ম্যাটিংলি নামের আরে পুলিশ সদস্যও এ ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও কোনও অভিযোগ গঠন করা হয়নি। বিচারের রায়ে আদালতও পুলিশের দাবিকেই মান্যতা দিয়েছে। কিন্তু সেই রায় মানতে নারাজ টেলরের পরিবার। তাঁর আইনজীবী ব্রেন কাম্প রায়কে ‘অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করেন। এরপরেই কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভের ঢেউ চলে আসে রাস্তায়। লুইভিল ছাড়াও আটলান্টা, নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনেও রাজপথে নেমে আসে আন্দোলনকারীরা। স্লোগান ওঠে, ‘বিচার নেই, শান্তি নেই’। পুলিশে বাধা দিতে এলে কোথাও কোথাও তাদের সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তিও হয়। কোথাও কোথাও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চলে ভাঙচুরও। গোটা ঘটনায় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..