সিনোভ্যাকের ট্রায়ালে অনুমতি, সেরামের সঙ্গে চুক্তি

স্পুৎনিকের জন্য চিঠি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : বিশ্বজুড়ে সবাই যেমন করোনাভাইরাসের টিকা পেতে উদগ্রীব, তেমনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও চেষ্টা চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর ভাষ্য থেকে পরিষ্কার, বাংলাদেশের চোখ মূলত অক্সফোর্ডের টিকার দিকে। কার্যকর টিকা পাওয়া গেলে তা যাতে সারা বিশ্বের মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি। এ দুই বিশ্ব সংস্থার আয়োজনে গত ৪ জুন গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিট হয়, যাতে বাংলাদেশেরও উপস্থিতি ছিল। ওই সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়, যাকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে কোভ্যাক্স। কোভ্যাক্সে অন্তর্ভুক্ত ১৫৬টি দেশ সম্প্রতি কার্যকর একটি টিকা পাওয়া মাত্র তার সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে চুক্তিও করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলে এসব দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ২০ শতাংশের জন্য সেই টিকা সরবরাহের প্রাথমিক লক্ষ্য ঠিক করেছে গ্যাভি। আর সেজন্য সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ, যদিও পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে কার্যকর ও নিরাপদ টিকার অনুমোদনপ্রাপ্তি, উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কোভ্যাক্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব দেশের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ডলারের বেশি সেসব দেশকে টিকা কিনে নিতে হবে। চার হাজার ডলারের নিচে আয়ের দেশকে শুরুতে বিনামূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকা দেবে গ্যাভি। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ গত ৯ জুলাই কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্যাভির কাছে আবেদন পাঠিয়েছে। সে আবেদন গ্যাভি গ্রহণ করেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো টিকার অনুমোদন দিলে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ হারে বাংলাদেশ গ্যাভির কাছ থেকে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা পেতে পারে। আর টিকা পেলে শুরুতে তা দেওয়া হবে চিকিৎসকসহ করোনভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ‘সম্মুখসারির যোদ্ধাদের’। তবে পুরো টিকাই বাংলাদেশকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে, নাকি সেজন্য আংশিক দাম দিতে হবে- সে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বরে গ্যাভির বোর্ড মিটিংয়ের পর। এখন বাংলাদেশ গ্যাভির কাছ থেকে বিভিন্ন রোগের যে টিকা নিচ্ছে তার ১০ শতাংশ মূল্য সরকারকে পরিশোধ করতে হয়, বাকি ৯০ শতাংশ দেয় গ্যাভি। এদিকে চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড তাদের তৈরি করা টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা বাংলাদেশে করার জন্য গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) অনুমোদন নেয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের বিলম্বের কারণে বিষয়টি ঝুলে থাকে প্রায় দেড় মাস। গত মাসের শেষদিকে সরকার সিনোভ্যাককে তাদের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী, এই টিকার বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজটি করবে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআর, বি। শুরুতে দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, সেভাবেই বাংলাদেশে সিনোভ্যাকের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে। এ ক্ষেত্রে স্বীকৃত পদ্ধতি হল, ট্রায়ালে একটি দলকে আলাদা করে আসল টিকা দিতে হবে। আরেকটি দলকে দেওয়া হবে ‘প্ল্যাসিবো’, অর্থাৎ টিকার মত শরীরে দেওয়া হলেও টিকার কোনো উপাদান সেখানে থাকবে না। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের কেউ জানবেন না, তিনি আসল টিকা পেয়েছেন, নাকি ‘প্ল্যাসিবো’। দুটি দলকেই ছয় মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তারা তা সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত টিকার প্রভাব বিশ্লেষণ করবেন। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত আসবে- ওই টিকা আসলে কতটা কার্যকর। আর এই পুরো ট্রায়াল হতে হবে অংশগ্রহণকারী সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করা সম্ভাব্য টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে। কোভিশিল্ড নামের ওই টিকা পরীক্ষা ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটি অফ ইন্ডিয়া- এসআইআই। এই টিকার ১০০ কোটির বেশি ডোজ উৎপাদন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহের জন্য এসআইআই ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার এবং গেটস ফাউন্ডেশন ও গ্যাভির সঙ্গে আংশীদারিত্বে পৌঁছেছে। আগস্টের শেষ দিকে বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড জানায়, ভারতে টিকা তৈরি হলে তা বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে তারা। এই চুক্তির আওতায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস হবে বাংলাদেশে এসআইইর ওই ভ্যাকসিনের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’। কত পরিমাণ টিকা আনা যাবে, দাম কত পড়বে সেসব বিষয় পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। এগুলোর বাইরে রাশিয়ার তৈরি ‘স্পুৎনিক’ টিকা পাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। ‘যেটা আমরা তাড়াতাড়ি পাব, এবং বেশি কার্যকর হবে, সেটাই আমাদের প্রায়োরিটি হবে। একেবারেই তো সব ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে না, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ সবার আগে। মানুষ যেটায় সুস্থ থাকবে, সেদিকে আমরা যাব,’ গণমাধ্যমকে বলেছেন জাহিদ মালেক।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..