প্রাণের একতা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মোসলেম উদ্দিন : অদৃশ্য এক মহামারি বাংলাদেশসহ পৃথিবীকে তছনছ করে দিয়েছে। সমস্ত মানুষ ঘরে আবদ্ধ থেকেছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। জীবন-জীবিকা, সমাজ-সংকৃতি ও সভ্যতা এক অজনা হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল। যদিও পরিস্থিতির ক্রমোন্নতি হচ্ছে, মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। তবে করোনাকালীন স্থবিরতা থেকে মিডিয়া জগৎও বাদ যায়নি। বিশেষ করে ছাপা পত্রিকা। করোনার অভিঘাতে সত্যিকার অর্থেই এ ক্ষেত্রটি পড়েছিল চরম সংকটে। মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে ছাপা পত্রিকা হাতে নিতে পর্যন্ত নিরাপদ বোধ করেনি। পাশাপাশি ছিল না কোনো স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা। আর এসব কারণেই করোনার বিরূপ ও ভয়াবহ দিনগুলোতে আমাদের প্রাণের পত্রিকা সাপ্তাহিক একতা ছাপা কাগজে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। বন্ধ ছিল ২৫ সপ্তাহ (ছয় মাস)। কিন্তু প্রথমদিকে ১ মাস পর থেকে আমরা অনলাইন মাধ্যমে সাপ্তাহিকভাবে একতা প্রকাশে সক্ষম হয়েছি। যদিও একতার পাঠকের বড় একটি অংশ গ্রামাঞ্চলে তথ্য-প্রযুক্তির বাহিরে বসবাস করেন। তারা কিন্তু এই সময়ে পত্রিকাটি পড়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একতার যারা পাঠক, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ী তাদের বড় একটি অংশ যে একতাকে এতো ভালবাসেন তা এই লকডাউন না হলে বুঝতে পারতাম না। লকডাউন তুলে নেয়ার পর যখন জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছিল তখন থেকে প্রতিনিয়ত আমাকে ফোন করে খবরাখবর নিচ্ছেন, কবে থেকে একতা প্রকাশিত হবে, কবে তাদের হাতে পৌঁছুবে। এমনও পাঠক ফোন করেছেন যে, উনি ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সপ্তাহে একদিন উপজেলায় আসেন শুধু একতাটি নেয়ার জন্য। এবং পত্রিকার কোনো লাইন পড়তে বাকি রাখেন না। এমনও দিন গিয়েছে, সকাল-সন্ধ্যা ১০/১৫ জন পাঠক আমায় ফোন করে একতা প্রকাশের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এমন আন্তরিক পাঠক নামিদামি অনেক দৈনিক পত্রিকার কতজন আছে কিংবা আদৌ আছে কিনা, তা সত্যিই ভাবনার বিষয়। একতার সাথে দুই যুগ ধরে আছি। আমার মনে হয় আমার এ শ্রম ও মেধাটুকু বিফলে যায়নি। কতগুলো মানুষের মনের খোরাকের জন্য পত্রিকাটি তাদের হাতে যথাসাধ্য নিয়মিত পৌঁছে দিতে পারছি। একতার সাথে যারা নিরলসভাবে স্বল্প বা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে যাচ্ছে তাদের শ্রম সার্থক হয়েছে। আপনাদের এই আগ্রহ ও প্রেরণায় আগামী দিনে একতার পথচলা আরো বেগবান হবে। আগামী দিনগুলোতে আপনাদের সাহায্য ও সহযোগিতা একতাকে আরো অনেক দূর নিয়ে যাবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এখন থেকে আবারও নিয়মিতভাবে প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে কাজ করে যাবো। জয় হোক একতার, জয় হোক মেহনতি মানুষের।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..