বাংলাদেশে মহামারির কী অবস্থা?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সঠিক তথ্য না থাকায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারির প্রকৃত অবস্থা কী, তা বলতে পারছে না কেউ। এর মধ্যে দেখা দিয়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা। এমন পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যাবে, তার কোনো দিশাও নেই। এখনই সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের যে ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থা, তাতে সংক্রমণ রেখা ‘ওভারল্যাপ’ করলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দৈনিক শনাক্ত রোগীর যে পরিসংখ্যান প্রতিদিন দিচ্ছে, তাতে সংক্রমণ কমে আসার একটি ধারণা মনে জাগলেও দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যা কমে আসায় ওই পরিসংখ্যান প্রকৃত চিত্র দিচ্ছে কি না সেই সংশয় রয়েই যাচ্ছে। যারা নিজে থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন, কেবল তাদের তথ্যই সরকারি খাতায় আসছে। যাদের উপসর্গ সেভাবে নেই, তারা হিসাবের বাইরেই থেকে যাচ্ছেন। জনসংখ্যার অনুপাতে দেশের কোন এলাকায় কতটা ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস, সেই বিশ্লেষণও জানা যাচ্ছে না ওই পরিসংখ্যান থেকে। কাজেই পরীক্ষা বাড়িয়ে সঠিক চিত্র তুলে আনার ব্যবস্থা না হলে বাংলাদেশ ‘দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ চক্রে’ পড়তে পারে, বলে সতর্ক করছেন তারা। বাংলাদেশে মহামারির শুরু থেকে কেবল আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে করোনাভাইরাস শনাক্তের কাজ চলছে। এই পরীক্ষা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ, তবে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত। অন্যদিকে অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় জানা যায়, কারও শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। অর্থাৎ, যারা আক্রান্ত হলেও উপসর্গহীন (অ্যাসিম্পটোম্যাটিক) ছিলেন এবং সেরে উঠেছেন, তাদের অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। আ তা করা গেলে জানা যাবে করোনাভাইরাস আসলে কতটা ছড়িয়েছে। দেশে ল্যাবের সংখ্যা বাড়লেও গত জুন-জুলাইয়ের তুলনায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা কমেছেদেশে ল্যাবের সংখ্যা বাড়লেও গত জুন-জুলাইয়ের তুলনায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা কমেছে। বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য র্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহারের অনুমতি দিলেও অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন এখনও দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত সময়ে দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজারের ঘরে। সেপ্টেম্বরে তা কমে এসে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজারের ঘরে থাকছে। এই সময়ে দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার আরটি-পিসিআর ল্যাব বাড়লেও দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যা কমেছে। জুনের শেষ আর জুলাইয়ের শুরুতে দৈনিক ১৭ থেকে ১৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল, এখন তা ঘোরাফেরা করছে ১১ থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে। সরকারি হিসাবে ‘প্রকৃত আক্রান্তের তুলনায় কম শনাক্তের তথ্য আসায়’ মানুষের মধ্যে ‘সতর্কতায় ঘাটতি’ তৈরি হচ্ছে এবং তাতে ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও ‘ভুল অ্যাপ্রোচের’ কারণে ভাইরাসের বিস্তার ‘আসলে কমানো যাচ্ছে না’। মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধির কথা যতই মুখে বলা হোক, মানুষ তা মানছে না খুব একটা; এদিকে ইউরোপ-আমেরিকার মত বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে সংক্রমণের ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। খোদ সরকারপ্রধান আসন্ন শীত মওসুমে ভাইরাসের প্রকোপ আবার বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে সেজন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটিও গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা বলেছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দ্বিতীয় দফায় দীর্ঘ সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন করোনাভাইরাস সঙ্কটে বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ সহায়তা দিয়ে আস সাবেক ছাত্রনেতা ডা. মুশতাক হোসেনও। তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি শনাক্ত করব, তাদের আইসোলেশন করা ও কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে মহামারি নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হবে। কিন্তু এগুলো হচ্ছে না। এভাবে হাল ছেড়ে দিলে সংক্রমণটা আবার বাড়বে। যদি আমরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে সেকেন্ড ওয়েভটা অনেক বড় হবে।’ ‘এখনও প্রবাহটা পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। যদি সংক্রমণের হার দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে কমতে থাকে, তাহলে একটা ট্রেন্ড বোঝা যাবে। জুন, জুলাই, অগাস্টে ২০ শতাংশের উপরে ছিল দৈনিক শনাক্তের হার। মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে শনাক্তের হারটা দিয়ে আমাদের সংক্রমণের অবস্থাটা কোন পর্যায়ে, সে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এটার সাথে অন্য দেশের তুলনা করলে হবে না। কারণ ভারতে শনাক্তের হার ৮-৯ শতাংশ, কিন্তু সেখানে করোনাভাইরাস এখন উঠতির দিকে।’ দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যার সাথেও সংক্রমণের একটি সম্পর্ক আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে শনাক্তের হারটা কম। যদি মৃত্যুর হারটা না কমে, তাহলে বলতে হবে সংক্রমণ খুব একটা কমেনি। মৃত্যুর সংখ্যাটা কিন্তু মোর রিলায়েবল। কিন্তু টেস্ট যদি বেশি না হয় বা মানুষ যদি টেস্ট করতে না আসে, তাহলে সংক্রমণের হারটা বোঝা যাবে না।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..