টিকা কতদূর?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস মহামারি এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আক্রান্ত ৩ কোটির বেশি। এসবই বিভিন্ন দেশের সরকারের দেওয়া হিসাব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব ব্যক্তির দেহেই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যাদের উপসর্গ দেখা গেছে। উপসর্গবিহীনদের প্রকৃত খোঁজ কারও কাছে নেই। শুরুর দিকে লকডাউন দিয়ে দেশে দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হলেও, এখন বেশিরভাগ দেশকেই অর্থনীতি সচলে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। তার মধ্যে চলছে টিকার আকুতি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ টিকার তৃতীয় পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়ালে প্রবেশের খবর দিয়েছে। কিন্তু এরপরও চূড়ান্ত একটি কার্যকর টিকা পেতে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির চেষ্টায় বিশ্বে এখন প্রায় দুইশ গবেষণা চলছে। এর মধ্যে ছয়টি সম্ভাব্য টিকা পৌঁছেছে পরীক্ষার একেবারে শেষ ধাপে। এর মধ্যে সবার আগে টিকা বাজারে এনেছে রাশিয়া। তাদের গামালিয়া ইনস্টিটিউটের টিকাটি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা ছাড়াই বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে তাদের আগের ধাপের পরীক্ষাগুলোতে অভাবনীয় ভালো ফল এসেছে বলে ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানানো হয়েছে। রাশিয়া এরই মধ্যে নিজের দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষদের মধ্যে টিকা প্রয়োগ শুরুও করেছে। চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। একই ধাপে আছে আস্ট্রাজেনেকা, মডার্না, ফাইজার, ক্যানসিনো বায়োলজিক্যাল ও সিনোফার্মের টিকাও। কোনো টিকা চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগে বিপুল সংখ্যক রোগীর ওপর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে হয়, যাকে বলে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় সফল প্রমাণিত হলে ট্রায়ালে অংশ নেওয়া দেশগুলো ইমার্জেন্সি অথরাইজেশন দেবে। সবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি আসবে। অক্সফোর্ডের গবেষকদের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ টিকা উৎপাদনে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। এক স্বেচ্ছাসেবকের দেহে পাশর্^প্রতিক্রিয়া মেলায় মাঝে কিছু সময় এই সম্ভাব্য টিকার ট্রায়াল স্থগিত থাকলেও পরে তা ফের শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের একটি সম্ভাব্য টিকারও অ্যানিমেল ট্রায়াল প্রায় শেষের দিকে বলে চলতি মাসের শুরুর দিকে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাঠাতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, টিকা পেলেও আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০০ কোটি মানুষের কাছে টিকা পৌঁছানো যাবে। এর ভেতর দিয়েই অগ্রসর হতে হবে। আবার এসব টিকা কতদিন পর্যন্ত শরীরকে সুরক্ষা দেবে, তারও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে মাস্ক পরা, ঘন ঘন হাত ধোওয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ সুরক্ষা বিধি আরও বেশ অনেকদিন অনুসরণ করতে হবে বলেও ভাষ্য চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..