শিক্ষার্থীদের সঙ্কট নিরসনে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

বেতন ফি মওকুফসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীতে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিক্ষোভ
একতা প্রতিবেদক : করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বেতন ফি মওকুফ, মেস ভাড়া মওকুফে সরকারি বরাদ্দ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া অনলাইন ক্লাস পরিচালনা না করা এবং বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জোট সচিবালয়ের সামনে সমাবেশ করে। এরপর একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়ে আসে। সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক অনিক রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয় এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারি শুরু থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র জোট ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আন্দোলন পরিচালনা করছে। মহামারিতে যখন দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা নড়বড়ে, প্রতিনিয়ত মানুষের আয় কমছে তখন আমরা সরকারকে দেশের আপামর মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে দেখিনি। সরকার ব্যবসায়ীদেরকে প্রথমেই প্রণোদনা দিয়েছে এবং ক্রমাগত তাদের দিকটাই সরকার বার বার দেখছে। আমরা প্রথম থেকেই শিক্ষাখাতে প্রণোদনার আহ্বান সরকারের উদ্দেশ্যে রেখেছিলাম। কিন্তু সরকার তাতে নজর দেননি। ফলে এখন এই অর্থনৈতিক অবস্থায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অনলাইন ক্লাসের নামে যে কর্মকাণ্ড দেশে পরিচালনা হচ্ছে তাতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ক্লাস পরীক্ষা চালানো হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ইয়ার ড্রপসহ বিভিন্ন সঙ্কট তৈরি হচ্ছে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভূমিকাই নেয়া হয়নি। নেতৃবৃন্দ সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার যে গভীর সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে তা নিরসনে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে আমরা মনে করি আমাদের তিন দফা দাবি যদি পূরণ করা না হয় বা এখনও যদি সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্কটের জন্য বাংলাদেশ সরকার এককভাবে দায়ী থাকবে। অবিলম্বে দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং যদি দাবি পূরণ না করা হয় তাহলে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..