করোনা ও মূল্যবৃদ্ধি: উভয় মহামারিকে রুখতে হবে

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম :

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
‘থাকলে ডোবাখানা হবে কচুরিপানা- স্বভাবতো কখনও যাবে না...’ - এই জনপ্রিয় গানটি সভা, সমাবেশ, অনুষ্ঠানে হর-হামেশাই গাওয়া হয়। এই গানের মর্মার্থ যে সর্বাংশে বাস্তবসম্মত ও নির্ভুল সত্য সে কথা জনগণ তাদের অভিজ্ঞতা থেকে হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছে। একদিকে, করোনা-দুর্যোগে জনগণ আজ জর্জরিত। অন্যদিকে, করোনার এই মহাদুর্যোগের মাঝেও লুটেরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন ও নৈরাজ্যমূলক ঊর্ধ্বগতির মাত্রা আরও বেড়েছে। ফলে যন্ত্রণার দ্বিমুখী আঘাতে জনগণ আজ বিধ্বস্ত। করোনার আঘাতের মুখে যে ‘মানবিকতার’ প্রদর্শন ঘটা উচিত ছিল, সমাজ-রাষ্ট্র-সরকার তা প্রদর্শন করেনি। এর কারণ, যে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় দেশ চলছে সেখানে ‘টাকা বানানোর লালসার’ মূখ্য বিবেচনার কাছে ‘মানবিকতার’ বিবেচনার কোনো স্থান নেই। ‘ডোবাখানায়’ কচুরিপানাই যে জন্ম নিবে, পদ্ম যে ফুটবে না- সেটিই স্বাভাবিক। লাগামহীন গতিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন নয়। এটি চলছে আগে থেকেই। বাজার করাটি বহুদিন ধরেই ‘ঘাম দিয়ে জ্বর আসার’ মতো একটি ব্যপারে পরিণত হয়েছে। সংসার চালাতে গিয়ে জনগণ হিমশিম খাচ্ছে। তাদের কাছে ‘অভূতপূর্ব উন্নয়নের’ সরকারি প্রচারণা নিছক ভাঁওতাবাজি ও মিথ্যাচার বলে প্রতিভাত হচ্ছে। দৈনন্দিন বাস্তব অভিজ্ঞতায় তারা দেখছে যে সরকার নিজেই বিদ্যুৎ-গ্যাস-ওয়াসার পানি প্রভৃতির দাম ক্রমাগতভাবে বাড়াচ্ছে। বাড়ছে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা খরচ, যাতায়াত ব্যয়। অতি আবশ্যক খাদ্যসামগ্রীর দাম ভীতিকরভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি পেয়াজের দাম ‘সেঞ্চুরির’ সীমা পেরিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের এহেন উল্লম্ফনের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, তথা তাদের ‘প্রকৃত আয়’ ক্রমাগতভাবে কমছে। জনগণ তাতে আরও দিশেহারা হয়ে পড়ছে। করোনার দুর্যোগেকালে, যখন সমগ্র দেশবাসী ও বিশ্ববাসী একযোগে এক ‘মহাবিপদে’ নিপতিত, তখন অন্তত ‘মানবিক’ বিবেচনায় তা কিছুটা লাঘব হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না হয়ে, বরঞ্চ সাধারণ মানুষের ‘অসহায়ত্বের’ সুযোগ নিয়ে মুনাফা শিকারী লুটেরাগোষ্ঠী বেপরোয়া মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের দূর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘মুনাফা ও লুটপাটের লালসা’ ন্যূনতম ‘মানবিক’ বিবেচনাটুকুকেও পদদলিত করে তার উপরে স্থান করে নিয়েছে। ‘লুটেরা শোষকরা’ আজ দেশ শাসন করছে বলেই এরূপ নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনা ঘটতে পারছে। ‘করোনা’ থাকলেই বা কি, আর না থাকলেই বা কি, সব পরিস্থিতিতেই নিত্য ব্যবহার্য্য-পণ্যের বাজারদর বাড়তে থাকে। করোনার মহাবিপর্যয় কালেও একই অবস্থা। এ সময়ে দাম কমে তো না-ই, এমনকি তা একজায়গায় স্থিরও থাকেনি। তা লাগামহীন হারে বেড়েছে। এর কারণ কী? এর কারণ হলো, যে ‘পুঁজিবাদী’ ব্যবস্থার অধীনে বাজার পরিচালিত হচ্ছে সেখানে এমন ঘটাটিই অবধারিত। ‘সরবরাহ ও চাহিদা’ দ্বারা স্ব-নিয়ন্ত্রিতভাবে পণ্যের ‘বাজার দর’ নির্ধারিত হয় বলে পুঁজিবাদের তাবেদাররা বলে থাকেন। মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে তারা বলেন যে, সরবরাহ যেহেতু কম তাই দাম তো বাড়বেই! এই গৎবাঁধা অজুহাত মানুষের যুক্তি-বুদ্ধি-অভিজ্ঞতার সামনে ধোপে টেকে না। বাস্তব অভিজ্ঞতায় তারা দেখতে পান যে, ফসলের ভরা মৌসুমেও খুচরা বাজারে চালের দাম কমার বদলে তা আরও বাড়ে। আবার একই সময়ে পাইকারি বাজারে গরিব কৃষককে পানির দামে তার ‘রক্তে বোনা ধান’ বিক্রি করে দিতে হয়। এ থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, চাহিদা-সরবরাহ দ্বারা দাম নির্ধারিত হয় না। ‘বাজার’ ব্যাপারটি ইচ্ছানিরপেক্ষ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয় না। ‘পুঁজিবাদী বাজার’ আসলে চলে বিশেষ শক্তির নিয়ন্ত্রণে, যার উপস্থিতি সরল ও সাদা চোখে টের পাওয়া যায় না। মানুষ সেই অদৃশ্য শক্তিটিকে সহজে চিনে উঠতে পারে না। বাজারের এহেন বৈরী খামখেয়ালিপনার কারণ মানুষের কাছে রহস্যাবৃতই হয়ে থাকে। বাজার নামের ‘দেবতার’ বৈরী হালচাল অবলোকন করে তার মনে জিজ্ঞাসা জাগে- ‘বাজার’ তবে চলে আসলে কোন ‘দানবের’ নিয়ন্ত্রণে? ‘বাজারের’ উপাসকরা বলে থাকেন, ‘বাজার’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণ’- এ দুটি হলো পরস্পরবিরোধী (mutually exclusive) বিষয়। বাজার নিজেকেই নিজে পরিচালনা করে। বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রক থাকতে নেই। বাজারের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হলে সেটি তখন আর বিশুদ্ধ বাজার (perfect market) থাকে না। বাজারের বিশুদ্ধতা না থাকার কারণেই সৃষ্টি হয় তার খামখেয়ালি আচরণ। তাই, কোনো সমস্যা হলে তার সমাধান হলো- বাজারকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার মাধ্যমে তাকে বিশুদ্ধ করে তোলা। বাজারকে তার স্বয়ংক্রিয় ধারায় স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে দিলেই সব সমস্যা আপনা-আপনি সমাধান হয়ে যাবে। বাজারের যে উত্থান-পতনের খামখেয়ালি আচরণ আমরা অবলোকন করি তা কোনো রোগ নয়। বরং তা আসলে হলো বাজারের স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে প্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যক একটি প্রক্রিয়ামাত্র। ‘বাজারের’ এই আপাত খামখেয়ালিপনার ‘দাওয়াই’ হলো একটিই এবং তা হলো বাজারকে তার মতো করে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে দেয়া। ‘বিশুদ্ধ বাজার’-এর তত্ত্বের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। কারণ বাস্তব জগতে বিশুদ্ধ বাজারের শর্তগুলো কখনও পূরণ হওয়ার মতো নয়। অসীমসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি, পণ্যের অবাধ স্থানান্তরের সুযোগ, সার্বিক বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও পরিপূর্ণ তথ্যের নিশ্চয়তা ইত্যাদি হলো বিশুদ্ধ বাজারের জন্য আবশ্যিক শর্ত। এসব শর্ত বাস্তব জীবনে কখনই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই ‘বিশুদ্ধ বাজার’-এর তত্ত্বের দ্বারা কল্পস্বর্গের চিত্র আঁকা সম্ভব হলেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বাস্তবে ‘অবিশুদ্ধ বাজার’ (imperfect market) বিরাজ করে। সেখানে টাকাই হলো বাজারের ‘দেবতা’ ও নিয়ন্ত্রক। যেমন, ধরা যাক ‘চাহিদার’ বিষয়টি। গরিব মানুষের ‘চাহিদা’ অনেক। কিন্তু সেই চাহিদা (demand) মেটানোর মতো টাকার শক্তি না থাকলে তা ‘কার্যকর চাহিদা’ (effective demand) বলে পরিগণিত হয় না। এ কারণে ‘চাহিদা’ সর্বজনীন হলেও ‘কার্যকর চাহিদা’ তাদের দ্বারাই পূরণ হতে পারে, যাদের হাতে ‘টাকার’ শক্তি আছে। তাই শেষ বিচারে বাজার চলে ‘টাকার’ নিয়ন্ত্রণে। বাজারকে ঘিরে যে রহস্যময়তার সুযোগে বাজারে ক্রিয়ারত সবচেয়ে সচল উপাদান, প্রবহমান ‘টাকার শক্তি’ বাজারের ওপর আধিপত্ব স্থাপন করে নিতে সক্ষম হয়। এভাবেই বাজারের ওপর স্থাপিত হয় ‘টাকাওয়ালাদের’ আধিপত্ব। বাজারে টাকা খাটাতে পারার সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে ‘টাকাওয়ালারা’ পণ্যের সরবরাহ বা চাহিদা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। টাকার ওপর মুষ্টিমেয় ধনকুবেরের আধিপত্বের জোরে তারা ‘বাজারের কর্মকাণ্ড’ প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে স্বক্ষম হয়। টাকা দিয়ে পণ্য কিনে তা মজুদ করে কৃত্রিম সরবরাহ সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে তারা বাজারে পণ্যের দাম তাদের নিজস্ব সুবিধামতো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। কিংবা কৃত্রিম ক্রেতা সংকট তৈরি করে (যেমন কিনা চালকল মালিক কর্তৃক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা বন্ধ রেখে) কৃষককে কম দামে তা বিক্রি করতে বাধ্য করে। এটিই পুঁজিবাদী বাজারের একটি অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য। এখানেই সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে পুঁজিবাদী বাজারের মৌলিক বৈরিতার উৎপত্তিস্থল। বাজার যেভাবে ‘টাকা’ ও ‘টাকাওয়ালাদের’ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় তা থেকে উদ্ধার পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের ব্যবস্থা হলো, বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাটিকে এদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে জনগণের হাতে নিয়ে আসা। এর জন্য প্রয়োজন সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ নির্মাণ করা। সেজন্য কাজ করে যেতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জন স্বাপেক্ষে গরিব-মধ্যবিত্ত জনগণকে আপাত কিছু স্বস্তি পেতে হলেও সেজন্য একটি পথই রয়েছে। সে পথ ও পদক্ষেপ হলো- ‘টাকার’ ও ‘ব্যক্তিগত মুনাফার’ একচেটিয়া আধিপত্যের নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে বাজারের ওপর একই সঙ্গে ‘সামাজিক স্বার্থের’ কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা। এ কাজটি করতে হলে প্রতিষ্ঠা করতে হবে একটি গণতান্ত্রিক প্রগতিমুখীন সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্থাপন করতে হবে শক্তিশালী ‘গণবণ্টন ব্যবস্থা’। এবং সে ধরনের সরকারের সহযোগিতায় সারাদেশে গড়ে তুলতে হবে জনগণের বহুমুখী সমবায়- ইত্যাদি। যেসব পদক্ষেপগুলো এ ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে গ্রহণ করতে হবে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল- ১. শক্তিশালী গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু করা ২. বিভিন্ন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ‘উৎপাদক সমবায়’ ও ‘ক্রেতা সমবায়’ স্থাপন করে তাদের মধ্যে সরাসরি কেনাবেচা ও লেনদেনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা ৩. নিত্যব্যবহার্য ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ‘বাফার স্টক’ মজুদ রাখার ব্যবস্থা করা ৪. টিসিবি, কসকর, ন্যায্যমূল্যের দোকান ইত্যাদি চালু ও শক্তিশালী করা ৫. গ্রাম ও শহরের গরিব মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা- ইত্যাদি। বাজার অর্থনীতির বৈশ্বিক রূপটি হলো ‘অবাধ খোলাবাজার অর্থনীতি’। এটি হলো পুঁজিবাদের ‘নয়া-উদারবাদী অর্থনীতির’ সবচেয়ে অধুনা রূপ। পুঁজি, পণ্য, মুনাফা প্রভৃতি উৎপাদনের বিভিন্ন উপাদানের বিশ্বব্যাপী অবাধ চলাচলের নিশ্চয়তা এবং নিয়ন্ত্রণমুক্ত বৈশ্বিক বাজার হলো এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এটি হলো এক ধরনের ‘বাজার মৌলবাদ’। কিন্তু তাজ্জবের বিষয় হলো- ‘নয়া-উদারবাদী অর্থনীতির’ প্রবক্তারা পুঁজি, পণ্য, মুনাফা ইত্যাদির অবাধ চলাচলের বিষয়ে সোচ্চার হলেও, তারা কোনোভাবেই ‘শ্রমের’ অবাধ চলাচলের সুযোগ দিতে রাজি নয়। ‘পুঁজি, মুনাফা, পণ্য ইত্যাদির ক্ষেত্রে তারা ‘বাজার মৌলবাদী’ হলেও শ্রমশক্তির ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ উল্টো ধারায় ‘উগ্র সংরক্ষণবাদী’ হয়ে আছে। এদিকে অবশ্য অন্যরকম ঘটনাও ঘটতে শুরু করেছে। অতিসম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অবাধ খোলাবাজার’ নীতি পরিত্যাগ করে ‘America First’ (আমেরিকা প্রথমে) শ্লোগান তুলে ‘সংরক্ষণবাদের’ নীতি প্রয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহস্র কোটি ডলারের ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’ শুরু করেছেন। আমেরিকাই এখন বিশ্বে ‘অবাধ খোলাবাজার’ ও ‘পুঁজিবাদের নয়া-উদারবাদী যুগের’ অবসান ঘটাতে উদ্যত হয়েছে। অথচ দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যর্থ ‘বাজার মৌলবাদের’ সেই নীতি দর্শনকে আমরা বাংলাদেশে আঁকড়ে ধরে আছি! ‘পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির’ এই ব্যবস্থা ও কাঠামোকে ভিত্তি করে পরিচালিত একটি সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় ‘মানবিক’ বিবেচনার কোনো মূল্য নেই। ‘করোনার’ আতঙ্কে দিশেহারা কোটি কোটি মানুষের অসহায় দুর্গতির মুখেও তাদের ওপর শোষণ-বঞ্চনা চালিয়ে মুষ্টিমেয় শাসকদের ব্যক্তিগত মুনাফা বৃদ্ধি করাই হলো সেখানে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। মানব সভ্যতার সামনে আত্মহননের এ পথ ধরে চলার দিনের অবসান ঘটানো আজ জরুরি কর্তব্য হয়ে উঠেছে। তাই প্রয়োজন বাজার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন র্যাডিকেল ভাবনা ও পদক্ষেপের। প্রয়োজন সমাজতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া। ‘করোনা’ যেমন কিনা একটি দৃশ্যমান বৈশ্বিক মহামারি, তেমনি পুঁজিবাদ-ও হলো মানব জাতির জন্য একটি অভিশাপ, একটি মহামারি। এই দুই মহামারিকেই সাহসের সাথে মোকাবেলা করাই হলো সব মানুষের সামনে আজ জরুরি কর্তব্য।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..